গত কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটিতে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ডের মধ্যে একদিকে বিনোদনের ছোঁয়া থাকলেও, অন্যদিকে কিছু কিশোর সদস্য একটি গ্যাং আকারে সংগঠিত হয়ে ঐ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসদুপায়ে প্রবেশ করে। এদিকে, আজ সকালের এক সংঘর্ষের ফলশ্রুতি হিসেবে খবর আসে যে, এই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হন।
ঘটনার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি প্রতিপক্ষের মধ্যে মূলত টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার জগতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে অনলাইনে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। প্রতিবেশি এলাকায় একরাশে ছড়িয়ে পড়া এই দ্বন্দ্ব প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারায় অবশেষে মাটি ও গ্যাসে প্রাণের ধারা ছোঁয়াতে দেখা যায়।
প্রথম রিপোর্টে জানানো হয় যে, সংঘর্ষটি শহরের এক জনপ্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ঘটেছিল, যেখানে একাধিক কিশোর একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে একটা কিশোর গুরুতর আঘাতগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকের তথ্য অনুসারে, আহত কিশোরটি রক্তক্ষয়নের কারণে প্রাণ হারানোর মুখে পড়েছিল। পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফোন, টিকটকের ভিডিও ফুটেজ ও কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।
ঘটনার পরক্ষবর্তী সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া চটকদার। পিতামাতা, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীরা সক্রিয়ভাবে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচলিত গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। একাধারে অভিযোগ উঠছে, টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত অনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করছে।
পুলিশ বিভাগের তরফ থেকে বলেছে, “এই ধরনের অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অনেক সময় অ-আবশ্যক উত্তেজনা ও হিংসাত্মক প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর তদন্ত চলমান। যারা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উচ্চ ব্যবস্থাপনা থেকে নির্দেশ এসেছে, টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে, যুব সমাজে অনলাইনে সৃষ্ট এই ধরনের প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষের প্রভাব দূর করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পিতামাতা ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক গবেষণা ও নারী সমাজবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি ইন্টারনেট সমস্যা নয়, বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও যুব সমাজের চেতনা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবী করছেন, সরকারকে এবং টিকটকের নীতিনির্ধারকদের উচিত, এ ধরনের অনৈতিক ও উত্তেজক বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এর পাশাপাশি, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন চ্যালেঞ্জের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে, তাদেরকে বৈধ ও সঠিক বিনোদনের মাধ্যম খুঁজে পেতে উৎসাহিত করা হবে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে পড়া সব প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। সংঘর্ষের আসল কারণ, ঘনিষ্ঠ অনলাইন প্রতিযোগিতা থেকে উদ্ভূত উত্তেজনা ও বাস্তব জীবনে আক্রমণের মর্মস্পর্শী প্রভাব স্পষ্ট। যারা এই কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
শহরের আইন প্রয়োগ সংস্থা ও প্রবাসী সংগঠনগুলিও একাত্মভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আক্রমণ রোধ করা যায়। তরুণ সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই মিলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা ও সমাজসেবী।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে রহমত শেখ নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি ও একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত রহমত শেখ (২৮) একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের সন্মানকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে রহমত শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা ইসরাফিল ও ইয়াছিনের বাড়িতে গিয়ে তর্কে জড়ান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ইসরাফিল ও ইয়াছিনসহ আরও কয়েকজন মিলে রহমতকে ধরে একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একটি পা দুইটি শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় রহমতকে প্রথমে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়। আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য রহমতকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতা জের ধরে মঘিয়ার সম্মান কাঠি গ্রামে থেকে রহমত নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয় অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত রহমতের দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং দুইটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আহত রহমত এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছে, তার দেয়া নাম অনুযায়ী এলাকায় অভিযান চলছে।
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানা (GPFPLC) পিএলসি-তে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বে স্থানীয় কাউন্সিলর কবির হোসেনের নেতৃত্বে এ চক্র সক্রিয় ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে গেলেও নতুন একটি চক্র কারখানায় নিয়মিত চুরি চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত থানায় ৫টি চুরির মামলা ও ৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮-১০ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আটককৃত চোর কারখানার পশ্চিম পাশে শীতলক্ষা নদী সংলগ্ন অংশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি না থাকায় তামার তার, ইয়ার কালেক্টর ও প্ল্যান্টে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ৩০২ নম্বর সাব-স্টেশনে চুরির সময় প্যানেল বোর্ডের বৈদ্যুতিক কেবল কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফকে প্যানেল বোর্ডের ওপর ফেলে আগুনে দগ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহত নিরাপত্তা কর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফ। এ বিষয়ে কারখানার জিএম ফকরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন সাপেক্ষে অনুমতি পেলে তা সম্ভব হবে। ফখরুল ইসলাম, জিএম,ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি ঘটনাগুলো তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এ আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ও তাঁর স্ত্রী পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং অবৈধ উৎসের অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং পূর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।