রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থাকে দেশের ভোগ্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে সরকার। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এই সময় বন্দরে ধর্মঘট ডেকে কার্যত দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে সংকটে ফেলার অপচেষ্টা চলছে, যা সরকার মেনে নেবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নৌপরিবহন উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, চার দফা দাবিতে রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট শুরু করে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এ কর্মসূচির ফলে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরবর্তীতে ওই আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক নয় এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে রমজানের আগে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবে। তাই সরকার যেকোনো মূল্যে বন্দর সচল রাখবে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমনে কঠোর কৌশল নিয়েছে। বন্দর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংগ্রাম পরিষদের অন্তত দুই সদস্যকে তুলে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
ভোটারদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন মেট্রোরেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। নির্বাচন উপলক্ষে সেদিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিকের চেয়েও বাড়ানো হবে। ডিএমটিসিএলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকলেও মেট্রোরেল কর্মদিবসের সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে যেসব স্টেশনের গেট ভোটকেন্দ্রের একেবারে সন্নিকটে, সেগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রাখা হবে। এ সময় মেট্রোরেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে ও ভোটের দিন সারাদেশে যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি টানা ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও দীর্ঘ সময়ের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্বাচন ও জনস্বার্থ বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জরুরি সেবা, চিকিৎসা ও ওষুধ পরিবহন, সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এবং টেলিযোগাযোগ সেবা সংশ্লিষ্ট যান চলাচলের অনুমতি থাকবে। বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীরা পাসপোর্ট ও টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে ছাড় পাবেন। একইভাবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও নির্ধারিত স্টিকার থাকলে প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টরা একটি করে ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি থাকলে যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে ন্যূনতম যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হয়। পাশাপাশি, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে এ বিধিনিষেধ কঠোর বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হাদির স্ত্রী এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবিরসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আরও সদস্য যোগ হওয়ায় যমুনা অভিমুখী সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্থায়ীভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অবস্থানরতরা প্রধান উপদেষ্টা থেকে স্পষ্ট বার্তা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে হাদি হত্যার তদন্তের জন্য অনুরোধ জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তারা ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন হাদি। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। হত্যার ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চ ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।