শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক সড়কে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় একটি মিনি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—রোকনুজ্জান রুকন (৩১), শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, এবং মাহফুজা খাতুন (১৯)। আহতদের শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানিয়েছেন, নিহত রুকনের দায়িত্ব পালনের জন্য বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী দায়িত্বে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অভিযানকালে কুখ্যাত বনদস্যু “জোনাব বাহিনী”-এর হাত থেকে এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জেলেটি হলেন মজিবর গাজী (৫০), খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যরাতে স্টেশন কয়রার একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা জিম্মিকে ফেলে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলেকে বর্তমানে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা বেইসে আনা হয়েছে এবং তাকে পরিবারকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলদিয়া ফেরিঘাটে ২৫ মার্চ সংঘটিত মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় যখন বহু যাত্রী নদীগর্ভে প্রাণ হারান, ঠিক সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই জীবন ফিরে পাওয়ার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফকিরহাটের সুমা আক্তার হীরা (৩৩)। জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে স্বামী ও সন্তানসহ রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন হীরা। দৌলদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর গরমের কারণে তার স্বামী ও সন্তান বাস থেকে নেমে বাইরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হঠাৎ নদীতে ডুবে যায়, যার ভেতরে আটকা পড়েন হীরা ও আরও অনেক যাত্রী। চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মসংযম বজায় রেখে হীরা বাসের জানালা ভেঙে বা খুলে কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে নদীতে ভেসে ওঠার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হীরার এই জীবনরক্ষাকারী সংগ্রাম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী তার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হীরা বলেন, “বাসটি যখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটাই চিন্তা ছিল—বাঁচতে হবে।” আইনগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনার বিবরণ নয়; বরং এটি দুর্যোগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত সচেতনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকায় কেরোসিন ঢেলে স্ত্রী জোসনা বেগমকে হত্যা করার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাশেদ মোল্লা বিয়ের কিছু মাস পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট তিনি ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে চাপ দেন; অস্বীকৃতির পর রাশেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জোসনার ওপর কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জোসনাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং রায়ে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।