নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলি, টেপাখরিবাড়ী এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস প্রায় ১৭ জনকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিন লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। একে ওই এলাকার নদী বাধ এবং রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নদী থেকে পাথর উত্তোলনে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। আজকে সকালের দিকে চক্রটি নদী থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। সেটি জানার পরে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান৷ এসময়ে পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করেন। এতে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ গুরুতর আহত হয়। পরে থানা পুলিশ ও সাংবাদিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় চক্রের সদস্যরা। এসময়ে তিনজন পুলিশ আহত হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে ডিমলা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিতোষ রায় বলেন, তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপরও হামলাকারীরা হামলা চালায়। এতে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করা করে হামলাকারীরা।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ইমরানুজ্জান বলেন, তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা এসেছেন। হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পল্লীতে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত চালক হারুন অর রশিদ (৫৩) কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত: মোবারক আলী মোল্লার ছেলে। রাত ৯টার দিকে ২ জন যাত্রী নিয়ে উপজেলা সদর থেকে সোনাতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী প্রতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে যখন করে তার পকেটে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এঘটনায় একটি অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা নগরীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা নগরীর লবণচরা থানার খাদিজাবাগের কৃষ্ণনগর ঠিকারবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফাহিমা খাতুন। এর মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে। অন্য দুইজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামী ইমরানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষিন্দার কুমার দে জানান, গুরুতর আহত দুই নারীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক মুরগিবাহী যানবাহন থেকে প্রায় ১৬০টি লেয়ার মুরগি ছিনতাই হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মো. শাকিল ফারহান মিয়া গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শাকিল ফারহান মিয়াকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ মার্চ রাত ১০টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের উছমানপুর এলাকায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের একটি মুরগিবাহী গাড়ি আটকানো হয়। অভিযোগ, শাকিল ফারহান মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক জোরপূর্বক গাড়ির গতিরোধ করে মুরগিগুলো ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া চালক ও হেলপারের কাছ থেকে দুটি মানিব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোনও নেওয়া হয়। প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, কোম্পানির সুপারভাইজার আশফাক ঘটনাস্থলে গেলে তার মোটরসাইকেলের চাবিও নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় চাবি ও একটি মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া গেলেও ছিনতাই হওয়া মুরগি উদ্ধার করা যায়নি। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল ফারহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।