ইরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখনো আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে সব নৌযানকে চলার আগে তেহরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী মুসাভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ইরান সামুদ্রিক নিরাপত্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এবং দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত, তবে প্রণালী শুধুমাত্র তাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রের জন্য বন্ধ থাকবে। মুসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনামূলক কার্যকলাপকে এই অঞ্চলের নৌ-চলাচলের ঝুঁকির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কমানোর কৌশল। বিকল্প নিরাপদ নৌপথের অভাবে হরমুজ প্রণালী সচল থাকা বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে শর্ত মেনে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া এখন বিশ্বজ্বালানি নিরাপত্তার মূল ফোকাসে পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়ে নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সেখানে বিমান ও গোলাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে। ইসরায়েলি বাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিখাই আদরাই জানান, আল-রিহান, জারজৌহ, কাফর রুম্মানে, আল-নেমিরিয়েহসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার হতাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিজেপির উত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর তিনি ফের বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সেই বাম ও অতিবাম শক্তিকেই পাশে চাওয়ার মধ্য দিয়ে মমতার রাজনৈতিক যাত্রা এক প্রতীকী পূর্ণবৃত্তে পৌঁছেছে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জি–কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন মমতা। পরে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি বামফ্রন্টবিরোধী জনমত গড়ে তোলেন এবং ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে দলকে আগের মতো টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, উত্তরসূরি প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আবারও রাজপথের আন্দোলনের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এ রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া শক্তির ফিরে আসা বিরল। সেই বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনীতির।
মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিবহন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। পুতিন বলেন, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগানো সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একসময় ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র মার্কিন ভূখণ্ডে স্থানান্তরের শর্ত আরোপ করলে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং তেহরানও অবস্থান কঠোর করে। রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান দ্রুত সম্ভব হবে। তবে পুতিনের এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।