পাকিস্তান যদি বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে ভারতের মেগাসিটি মুম্বাই ও দিল্লিকে সরাসরি আঘাত করার কোনো দ্বিধা থাকবে না—এই দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত। সোমবার (২৩ মার্চ) পাকিস্তানের এবিএন নিউজ টিভির ‘ডিসাইফার’ অনুষ্ঠানে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
বাসিত বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালায়, আমরা ভারতীয় শহরগুলোতে পাল্টা হামলা করতে দ্বিধা করব না। এটি আমাদের বিকল্প ছাড়া একমাত্র পদক্ষেপ হবে।” সাবেক কূটনীতিক যদিও মন্তব্যটিকে ‘চরম মুহূর্ত’ এবং ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ হিসেবে অভিহিত করেন, তবুও তার অবস্থান স্থির ছিল।
২০১৪-২০১৭ পর্যন্ত দিল্লিতে পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আব্দুল বাসিতের মন্তব্য নতুন করে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করেছে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হলে আত্মরক্ষার জন্য ভারতীয় জনপদে হামলা করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাবেক হাইকমিশনারের মুখ থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়ালকে আরও শক্ত করছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিজেপির উত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর তিনি ফের বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সেই বাম ও অতিবাম শক্তিকেই পাশে চাওয়ার মধ্য দিয়ে মমতার রাজনৈতিক যাত্রা এক প্রতীকী পূর্ণবৃত্তে পৌঁছেছে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জি–কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন মমতা। পরে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি বামফ্রন্টবিরোধী জনমত গড়ে তোলেন এবং ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে দলকে আগের মতো টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, উত্তরসূরি প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আবারও রাজপথের আন্দোলনের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এ রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া শক্তির ফিরে আসা বিরল। সেই বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনীতির।
মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিবহন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। পুতিন বলেন, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগানো সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একসময় ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র মার্কিন ভূখণ্ডে স্থানান্তরের শর্ত আরোপ করলে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং তেহরানও অবস্থান কঠোর করে। রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান দ্রুত সম্ভব হবে। তবে পুতিনের এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌযানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও ‘শত্রুপক্ষের জাহাজ’ লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক হামলার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ ও সামরিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও উভয় পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার বাইরে অবস্থান করছে।