মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায়। সোমবার (২৩ মার্চ) তেল আবিব, জেরুজালেমসহ কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চলে একাধিকবার সাইরেন বাজিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয় এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ভেদ করে ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের প্রমাণ মিলেছে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাও এর বাইরে ছিল না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, হামলায় ক্লাস্টার-ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিস্তৃত এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে সক্ষম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল কার্যকর করা হয়েছে।
একই সময়ে উত্তর সীমান্তে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েল দ্বিমুখী সামরিক চাপে রয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক অঞ্চল আংশিকভাবে খালি হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে পাল্টা জবাবের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, ফলে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিজেপির উত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর তিনি ফের বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সেই বাম ও অতিবাম শক্তিকেই পাশে চাওয়ার মধ্য দিয়ে মমতার রাজনৈতিক যাত্রা এক প্রতীকী পূর্ণবৃত্তে পৌঁছেছে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জি–কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন মমতা। পরে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি বামফ্রন্টবিরোধী জনমত গড়ে তোলেন এবং ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে দলকে আগের মতো টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, উত্তরসূরি প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আবারও রাজপথের আন্দোলনের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এ রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া শক্তির ফিরে আসা বিরল। সেই বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনীতির।
মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিবহন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। পুতিন বলেন, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগানো সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একসময় ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র মার্কিন ভূখণ্ডে স্থানান্তরের শর্ত আরোপ করলে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং তেহরানও অবস্থান কঠোর করে। রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান দ্রুত সম্ভব হবে। তবে পুতিনের এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌযানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও ‘শত্রুপক্ষের জাহাজ’ লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক হামলার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ ও সামরিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও উভয় পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার বাইরে অবস্থান করছে।