মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রিয়াদে ইসলামিক দেশগুলোর এক সম্মেলনের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্ষমতা সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবিলার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, প্রস্তাবিত উদ্যোগটি ন্যাটো-ধাঁচের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা জোট নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরিচালিত সামরিক কার্যক্রম এবং এর জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়াসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় আইনানুগ ও কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে যৌথ পদক্ষেপের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও গভীর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া পাল্টা শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রস্তাবটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।” এর ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কার্যত আত্মসমর্পণের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। জবাবে তেহরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলে। এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা ও সামরিক সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি–র সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। কাতারের রাষ্ট্রীয় বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ জলপথে চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন। কাতারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যপণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সি জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ভাষণেই নিজেকে ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চেন্নাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বংশ বা প্রভাবশালী পরিবারের উত্তরসূরি না হয়েও জনগণের আস্থায় তিনি এ দায়িত্বে এসেছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, তার সরকার মিথ্যা আশ্বাসের রাজনীতি করবে না; বরং ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে সরকারের সব সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের কাঁধে নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। শপথের পর প্রথম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন বিজয়। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।