কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক জ্বালানি তেল সংকট জনজীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা হঠাৎ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে পরিবহন খাত কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে চালকরা একের পর এক পাম্প ঘুরেও খালি হাতে ফিরে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মফস্বল বাজার ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সম্পূর্ণ ঘাটতি দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে অনেক চালক প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের লাকসাম উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছুটে গেলেও সেখানেও মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, এর আগের দিন সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দামে—লিটারপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, যা প্রচলিত বাজারদরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষয়টি বাজার নিয়ন্ত্রণ আইন ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বিধানের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
পরিবহন সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় অর্থনীতি ও জরুরি সেবাখাতে পড়তে শুরু করেছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, পাশাপাশি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এক চালক জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে খুচরা বিক্রেতা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিকল্প ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বিক্রি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে বিক্রি শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত পুনর্বহাল এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয় এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমস্যা ও সড়কজুড়ে দীর্ঘ লাইনের মধ্যেই এক বিয়ের অনুষ্ঠানে জন্ম নিলো বিরল দৃশ্য। সদরের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে বর রাতুল হাসান সাফি হাতে পেয়েছেন ৫ লিটার অকটেন। উপস্থিত অতিথিদের চোখে কৌতূহল এবং হাসির সঞ্চার ঘটেছে এই ব্যতিক্রমী উপহারের কারণে। উপহারদাতা জহিরুল ইসলাম জানান, দৈনন্দিন কাজের জন্য তেলের ঘাটতি এবং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরিস্থিতিতে বর-কনের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে এই অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন তেলের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সেই সময় বর-কনে যাতে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে, তাই এ ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” অতিথিরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময় এমন উপহার শুধু মজার নয়, বরং ব্যবহারিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বর রাতুল হাসান সাফি মন্তব্য করেন, “অকটেন হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে আমাদের কাজে আসবে। এটি সত্যিই একটি স্মরণীয় এবং প্রাসঙ্গিক উপহার।” এই ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনে পড়া অসুবিধারও একটি অনন্য প্রতিফলন হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদীর পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে যারা অসৎ কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, খাল খনন দেশের কৃষি বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকল্পের অর্থ যেন সরাসরি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি থাকবে। এছাড়া খাল ও নদী খনন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের সুযোগ তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলার জন্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন এবং বলেন, কৃষি ও কৃষিবান্ধব প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কৃষকরা পুনঃ খননের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে অঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমিতে সেচ সুবিধা সহজতর হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটনস্থলে পরিবার-পরিজনসহ হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে ছুটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহর ও জেলার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। বড়দের পাশাপাশি শিশু ও তরুণরা আনন্দের সঙ্গে ছবি তুলছে, সেলফি নিচ্ছে এবং বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছে। শহরের ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আইচক্রিম, কোকোকোলা, চা, ফুসকা ও কফি হাউসগুলোতে তরুণদের ক্রমাগত চাহিদা মেটাতে বিক্রেতাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। দর্শনার্থীরা ঘুরেছে সাতক্ষীরা দেবহাটার বনবিবি তলা (বটগাছ), রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র, সীমান্তের ইছামতি নদীর তীরের টাকীর ঘাট, সুন্দরবনের কলাগাছিয়ার আব্দুর রাজ্জাক শিশু পার্ক, শহরের মোজাফ্ফর গার্ডেন, মুন্সিগঞ্জের আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম, উড়াল উড়াল মন ট্যুরিজম, কারামোরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, লিমপিড গার্ডেন, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, নলতা রওজা শরীফ ও সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দিরসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় কেন্দ্রগুলোতে। শিশু ও তরুণদের সঙ্গে অভিভাবকরাও সাময়িকভাবে আনন্দে মগ্ন থাকলেও পুরো পরিবার মিলিয়ে সময় কাটাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে পিকআপ, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে আসে হাজার হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ আক্তার বলেন, ঈদের দিনে মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে এবং অনেকেই বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে বের হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা মাতোয়ারা আনন্দে মুখরিত, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই ঈদের ছুটিকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছে।