ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহে ভোগান্তির মধ্যেই সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সরবরাহে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা তথ্য অফিস থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়, বৈধ কাগজপত্র ও ফুয়েল কার্ড ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি দেওয়া যাবে না।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো পাম্প বা ডিলার পয়েন্ট থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া জ্বালানি নিতে হলে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেনসহ বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে জেলা প্রশাসনের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইউএনও অফিস ও জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
সাতক্ষীরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: জাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নকাজ ও বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ জানিয়েছে, শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের অধীন ঝিলমিল-১ উপকেন্দ্রের হাবিবনগর ফিডারে লোড বিভাজন ও উন্নয়নমূলক কাজের কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাবিবনগর, শুভাঢ্যা উত্তরপাড়া, বেগুনবাড়ীর আংশিক এলাকা, দারুসসালাম, ইকবাল নগর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিডারটির অতিরিক্ত লোড কমিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণের কাজ চলবে। এ কারণে রাজশাহীর রাবি স্টেশন ফিডারের আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে এক ট্রাকচালককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ট্রাকচালকের নাম হান্নান (৪৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে উপজেলার বিননালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় একটি গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হান্নানকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজবের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে শুক্রবার (৯ মে) রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে মো. সাজেদুল মৃধা (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ বিননালিয়া মৃধাডাঙ্গী গ্রামে। তার পিতার নাম মো. অহিদ মৃধা। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই সনাতনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রশাসন গুজবে কান না দিয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে রসালো আমের কেনাবেচা। ভ্যান, ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আম এনে বাজারে সাজানো হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দফায় দফায় দরাদরি ও বেচাকেনা। বর্তমানে জেলায় আম পাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন নতুন রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ চলছে। চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, শুরুতে বাজারে দাম ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।