সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ে প্রকাশ্যে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. সাকিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি জানান, অভিযানটি কালিয়াকৈরের ‘আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানি’ এলাকায় পরিচালনা করা হয়। সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার বাসিন্দা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে রিয়াদকে সাকিন ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের সিসি ফুটেজও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় রিয়াদ অটোরিকশায় বসে আছেন এবং একাধিক যুবক তাকে আক্রমণ করছে।
মামলার বাদী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, প্রধান আসামি সাকিনের পাশাপাশি ১১ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতার সাকিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হবে। ইতিমধ্যে আরও দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সাবেক সেনা মো. শহিদুল সোহেলের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নুরু বিশ্বাস (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দী এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে নুরুকে হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযান চালিয়ে হামলার মূল হোতা নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।” ঘটনার সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা বাজারের জননী সুপার মার্কেটের দোতলায় একটি ক্লিনিকের অফিস কক্ষে শহিদুল সোহেলের ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহিদুলের বড় ভাই বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেছেন।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে বিল্পব মিয়া বিশু নামে একজনকে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান- ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে পাঁচ বছর বয়সি শিশুটি বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিপ্লব মিয়া বিশু একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুর চিৎকারে বাবা মাসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিশু পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত শিশুকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনার পরদিন শিশুর বাবা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে বিশুকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বিশু। বর্তমানে আসামি বিশু গাজীপুরের শিশু সংশোধনাগারে রয়েছে। আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মামলার একমাত্র আসামি বিল্পব মিয়া বিশুকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে মামলার বাদী।
নরসিংদীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে ছাত্রকে । এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কে আটক করেছে পুলিশ । নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই ছাত্রের অবস্থা এখন আশংকাজনক। সদর উপজেলার চিনিশপুরের জেলখানা মোড়ে অবস্থিত মাদ্রাসাতুল আবরার আল আরাবিয়্যাহর ছাত্র মোঃ মুজাহিদকে তার আবাসিকে শিক্ষক নাজমুস সাকিব এ নির্যাতন করেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুম্মার নামাজ পড়ার জন্যে গোসল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক নাজমুস উত্তেজিত হয়ে ছাত্র মুজাহিদকে এ বেধড়ক প্রহার করেন। এতে মুজাহিদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আমরা মুজাহিদদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে ইতোমধ্যে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর পরই পুলিশ তাকে আটক করে।