নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক, পিএসসি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. জালাল উদ্দিন (৬৫) এবং তার ছেলে শুটার ইকবাল ওরফে মো. আকরাম হোসেন (৩৫)।
তিনি জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ টহলকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগরের গোপীনাথপুর, নওয়াবপুর ও পাড়াতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় দুটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, রামদা, ডেগার, ছুরি, চাপাতি, কার্তুজ, গুলি, বল্লম, পটকা, একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিভিন্ন মোবাইল ফোন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলাসহ চারটি এবং আকরামের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।
এ সময় নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়পুরার চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক, পিএসসি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. জালাল উদ্দিন (৬৫) এবং তার ছেলে শুটার ইকবাল ওরফে মো. আকরাম হোসেন (৩৫)। তিনি জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ টহলকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীনগরের গোপীনাথপুর, নওয়াবপুর ও পাড়াতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় দুটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, রামদা, ডেগার, ছুরি, চাপাতি, কার্তুজ, গুলি, বল্লম, পটকা, একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিভিন্ন মোবাইল ফোন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলাসহ চারটি এবং আকরামের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এ সময় নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়পুরার চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাস্তায় কর্মস্থলগামী এক কারারক্ষী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী সাথী আক্তার (৩০) বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৬টার দিকে মুজাহিদনগর আন্ডারপাসে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ ছিনতাইকারীর হাতে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া কানের দুল, মোবাইল ফোন এবং পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি চিৎকার করলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
দেশজুড়ে অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। বিশেষ করে চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এই চক্র নতুন কৌশলে প্রতারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা (Cyber Crime Investigation Division)। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন: টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ) এবং ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর হাসান বলেন, “এই চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা আইনে মামলা হয়েছে।” ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বিক্রি হতো ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করত—প্রথমে তারা ফেসবুকে ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন’ বা ‘সরকারি চাকরি প্রশ্ন ফাঁস’ নামে কিছু গ্রুপ চালু করত। সেসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করত, পরীক্ষার আগেই তারা “আসল প্রশ্নপত্র” দিতে পারবে। দ্বিতীয় ধাপে, আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন চ্যাটে কথা বলে বিকাশ/নগদে টাকা সংগ্রহ করত। অনেক সময় তারা আগের বছরের প্রশ্ন বা সাজানো প্রশ্ন ‘নমুনা’ হিসেবে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু ফেক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহবুবা হোসেন বলেন, “ভয়াবহ বিষয় হলো—তরুণ প্রজন্ম এখন অনলাইন প্রতারণাকে সহজলভ্য করে দেখছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছে। শুধু গত দুই মাসেই তারা প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে কোনো ধরনের লেনদেনে জড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাইবার হেল্পলাইনে (৯৯৯ বা সাইবার পোর্টাল) জানাতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের চক্রকে প্রতিরোধ করতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ে শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “প্রশ্নপত্র ফাঁস বলে কোনো ব্যবস্থা বা সংযোগ বাস্তবে নেই। কেউ এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করুন।” পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চক্রটি আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় আরও কিছু সদস্যের খোঁজ চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।