শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিঘলাকোনা এলাকার ১০৯০ নম্বর সীমান্ত পিলারের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলার চান্দাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে কামাল মিয়া (৩২) এবং জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পলাশতলা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল করিম (৩৫)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে ওই দুইজন অবৈধভাবে ১০৯০ সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার গুঞ্জনপাড়া ক্যাম্পের অধীনস্থ পাহাড়ি গ্রাম তিগরিতে প্রবেশ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে। পরে বিএসএফ সদস্যরা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে দু’দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভারতীয় ৫০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গুঞ্জনপাড়া ক্যাম্প ও বাংলাদেশের ৩৯ বিজিবির কর্ণজোড়া ফাঁড়ির মধ্যে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকে ওই দুই বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পতাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৩৯ বিজিবির নকশি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া, ৫০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গুঞ্জনপাড়া ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডারসহ বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা।
শ্রীবরদী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোরশেদ আলম জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ দুইজন বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের টাকা রংপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ৮শ' ৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ঈদ উপহার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশন চত্বরে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। এসময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, ‘নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই রংপুর নগরী প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে তাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগের কারণে পরিচ্ছন্নকর্মীদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও রংপুর মহানগরের সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রুবেল রানা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদী–এর ওপর নির্মিত ‘গোমা সেতু’। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমে ১৫ মার্চ উদ্বোধনের কথা থাকলেও চূড়ান্ত প্রস্তুতির কারণে তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি প্রায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ এবং দুই লেনবিশিষ্ট। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত সেতুটির মাঝের দুটি স্প্যান স্টিল ট্রাস প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সাধারণ স্প্যানের তুলনায় বেশি উঁচু। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন ও স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করার ফলে ২০২২ সালে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ–এর মধ্যে মতবিরোধের কারণে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে। পরে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর স্টিল ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হয় এবং নির্মাণকাজ আবারও শুরু হয়। এতদিন বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে নদী পারাপারের জন্য ফেরি বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হতো। সেতুটি চালু হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত হবে সহজ ও দ্রুত। স্থানীয়দের আশা, গোমা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই তীরের চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বোধন ঘিরে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।
শেরপুরের নকলায় সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নাজিফ (১২) নামের এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নাজিফ জামালপুর সদর উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তার মা ও দুই ভাই-বোন অটোরিকশায় ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে নাজিফ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতরা হলেন তার মা সুমা আক্তার, দুই সন্তান নাহিদ ও নওশিন এবং অটোরিকশার চালক। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সুমা আক্তার ও নাহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য দুইজন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, দুর্ঘটনাক্রান্ত বাসটি আটক করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।