নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি আবাসিক ভবনে ভাড়া পরিশোধ ছাড়াই বসবাসের অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সহকারী শিক্ষক মো. মশিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ও ভাড়া পরিশোধের কোনো রেকর্ড ছাড়াই ওই আবাসিক ভবনে অবস্থান করছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে বসবাসের জন্য অনুমোদন গ্রহণ ও নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও এ সংক্রান্ত কোনো নথি বিদ্যালয় বা উপজেলা পর্যায়ে পাওয়া যায়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, বিষয়টি সরকারি আর্থিক বিধি ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মশিউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানান।

সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, অভিযোগটি তাঁর নজরে আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চরকালী এলাকায় এক অসহায় বিধবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা ও দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মনিরুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা বেগম পৈত্রিক ও দলিলসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে তা দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। সমাধানের আশায় আয়েশা বেগম একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে জানান। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল তিনি পরিবারসহ বসবাসের জন্য জমির ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক দফা ওই ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আয়েশা বেগম ও তার ছেলে সোহাগ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা আয়েশা বেগমের পুরোনো বাড়ির একটি কক্ষ তালা, টিন ও কাঠ দিয়ে আটকে দিয়ে তাদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী আয়েশা বেগম ও এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকে সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ব্রিজে ওঠার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সড়ক বিভাজকে (ডিভাইডার) সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পরপরই ট্রাকটির ইঞ্জিন অংশে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো সামনের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ রক্ষায় চালক ও হেলপার ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। এতে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিস-এর একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ট্রাকটির বড় অংশ পুড়ে যায়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, যার ফলে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রংপুরে “জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনা” বিষয়ে দিনব্যাপী অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে এ আয়োজন করে নারী ক্ষমতায়ন ও পরিবেশবাদী সংগঠন ইউভ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক জিলুফা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুর আলম এবং সমাজসেবা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডায়ালগে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইয়ুথ লিড সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় রংপুর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউভ বাংলাদেশ ইয়ুথ কমিটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে যুব প্রতিনিধিরা জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে সচেতনতা বাড়াতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি “জেন্ডার কর্নার” স্থাপন করে নারীর স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপদ স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়। আয়োজকরা জানান, জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই জলবায়ু ও সামাজিক ন্যায্যতা অর্জন সম্ভব।