খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক প্রশস্তকরণে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার(২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৯ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে টানা ১৬ বছর ধরে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিচতলার গবাদি পশুর আশ্রয়স্থলে চালাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের ১৩৪ নম্বর লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষ ও ওয়াশরুম পুলিশ ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী তিনটি কক্ষে পাঠদান চলছে, যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, বৈদ্যুতিক ফ্যান ও শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী জানান, ১২৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চললেও উপযুক্ত পরিবেশের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ দখলে থাকায় দুর্যোগকালীন পশুর আশ্রয়স্থলেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একই ভবনে পাঠদান ও পুলিশি কার্যক্রম চলায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুলিশের উপস্থিতি ও জনসাধারণের যাতায়াতে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত জমিতে এখনো ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিদ্যালয় ভবনেই ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ফাঁড়ির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে পুলিশ সদস্যদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, একই স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা অনুপযুক্ত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দরিদ্র জেলের জন্য সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গরু না পাওয়ার ঘটনায় ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দেওয়ায় তালিকাভুক্ত জেলে তারাপদ বিশ্বাস বরাদ্দের গরু থেকে বঞ্চিত হন এবং ওই গরু পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ও বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফকিরহাট উপজেলার জেলেদের মাঝে গরু (বখনা বাছুর) বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জেলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে একটি গরু বরাদ্দ থাকলেও সেটি তাকে দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত গরু দেওয়ার শর্তে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গরু অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি বিক্রি করা হয়েছে। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের মাধ্যমে তাদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, তিনি অফিস খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু গ্রহণ করেন, পরে জানতে পারেন সেটি তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযুক্ত স্থানীয় ব্যক্তি মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে দায়ী নন এবং গরু বরাদ্দ ও বিতরণের সিদ্ধান্ত মৎস্য অফিস থেকেই হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, প্রকৃত জেলে উপস্থিত না থাকায় কার্ড যাচাই করে অন্য একজনকে গরু দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের পর মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশালের গৌরনদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনেই ১৪ জন ও বিড়ালের কামড়ে একজনসহ মোট ১৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার টরকী, বিল্বগ্রাম, শাওড়া, সুন্দরী, বার্থী, কটকস্থল, বাউরগাতি ও মাগুরাসহ একাধিক এলাকায় আকস্মিকভাবে কুকুরের আক্রমণে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন বলে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে কটকস্থল, সুন্দরদী, টরকী, বাউরগাতি ও আশপাশের গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। একইদিন গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিড়ালের কামড়ে আরও একজন আহত হয়ে চিকিৎসা নেন। এর আগের দিন (২৯ এপ্রিল) আরও কয়েকজন কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সমিরন হালদার জানান, আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।