ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা
ডিজিটাল যুগে বসবাস আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করে তুলেছে, তেমনি নতুন এক ধরনের অপরাধও নিয়ে এসেছে—ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতারণা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে অনলাইন প্রতারণার হার বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রতারণার মূল লক্ষ্য এখন দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী।
সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই বেশি অনলাইন অ্যাকটিভ। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শপিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম—বিভিন্ন কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ফেক অফার ও চাকরির বিজ্ঞাপন। “বাড়িতে বসে আয় করুন”, “বিনা মূল্যে আইফোন জিতুন” বা “মাত্র ৫০০ টাকায় বিদেশে চাকরি”—এমন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেক তরুণকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
এছাড়া ভুয়া ওয়েবসাইট বা ফিশিং লিংক পাঠিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে। কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করছে।
সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ভিত্তিক প্রতারণা। অপরিচিত নম্বর থেকে “আপনার বিকাশ নম্বরে টাকা এসেছে”, “OTP বলুন”, বা “আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে”—এই ধরনের মেসেজের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
তরুণরা প্রযুক্তিতে সক্রিয় হলেও অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয়। বিশ্বাস করে দ্রুত ফলাফল বা আয় পাওয়ার প্রতিশ্রুতি। অনেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ব্যাংক ডিটেইলস সহজেই শেয়ার করে ফেলে। ফলে সহজেই প্রতারণার শিকার হন।
তাছাড়া, তারা অনেক সময় প্রতারিত হলেও সামাজিকভাবে অপমানের ভয় বা আইনি ঝামেলার কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে প্রতারকরা বারবার একই কৌশলে অন্যদেরও টার্গেট করে।
অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক নয়
OTP বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলা যাবে না
দ্বৈত যাচাইকরণ (Two-Factor Authentication) চালু রাখা
যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করা
ভুয়া অফারে ক্লিক না করে সন্দেহজনক পোস্ট রিপোর্ট করা
পাশাপাশি, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত সাইবার অপরাধ নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি’ বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজনও সময়ের দাবি।
সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট আমাদের দরজা খুলে দিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার জগতে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে যেন প্রতারকরা ঢুকে না পড়ে, সে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের হতে হবে আরও বেশি সতর্ক, সচেতন এবং প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ সচেতন ব্যবহারকারীর প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে রহমত শেখ নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি ও একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত রহমত শেখ (২৮) একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের সন্মানকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে রহমত শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা ইসরাফিল ও ইয়াছিনের বাড়িতে গিয়ে তর্কে জড়ান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ইসরাফিল ও ইয়াছিনসহ আরও কয়েকজন মিলে রহমতকে ধরে একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একটি পা দুইটি শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় রহমতকে প্রথমে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়। আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য রহমতকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতা জের ধরে মঘিয়ার সম্মান কাঠি গ্রামে থেকে রহমত নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয় অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত রহমতের দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং দুইটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আহত রহমত এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছে, তার দেয়া নাম অনুযায়ী এলাকায় অভিযান চলছে।
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানা (GPFPLC) পিএলসি-তে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বে স্থানীয় কাউন্সিলর কবির হোসেনের নেতৃত্বে এ চক্র সক্রিয় ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে গেলেও নতুন একটি চক্র কারখানায় নিয়মিত চুরি চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত থানায় ৫টি চুরির মামলা ও ৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮-১০ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আটককৃত চোর কারখানার পশ্চিম পাশে শীতলক্ষা নদী সংলগ্ন অংশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি না থাকায় তামার তার, ইয়ার কালেক্টর ও প্ল্যান্টে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ৩০২ নম্বর সাব-স্টেশনে চুরির সময় প্যানেল বোর্ডের বৈদ্যুতিক কেবল কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফকে প্যানেল বোর্ডের ওপর ফেলে আগুনে দগ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহত নিরাপত্তা কর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফ। এ বিষয়ে কারখানার জিএম ফকরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন সাপেক্ষে অনুমতি পেলে তা সম্ভব হবে। ফখরুল ইসলাম, জিএম,ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি ঘটনাগুলো তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এ আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ও তাঁর স্ত্রী পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং অবৈধ উৎসের অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং পূর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।