মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর পদযাত্রা স্টেশন রোডের তেল পাম্পে গিয়ে পথসভায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির মূখ্য সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক এহতেশাম হক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। পথসভায় বক্তারা গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রীতম দাশের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণসহ চার দফা দাবিতে আবারও পঞ্চগড় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। দুপুর ১টার দিকে কর্মসূচিতে যোগ দেন পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দাবিগুলোর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা একই দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জোটের নেতাকর্মীরা। সেদিন পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি সাময়িক প্রত্যাহার করা হলেও বৃহস্পতিবার পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ১৯৭১ অস্বীকার করা হবে—এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অজ্ঞতাপ্রসূত। যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তারা নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচারণা ও উঠান বৈঠককালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি টানা ষষ্ঠ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সারজিস আলম বলেন, দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। জনগণ সংস্কার ও পরিবর্তন চেয়েছে বলেই এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। সেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে জুলাই সনদ কার্যকর করার মাধ্যমে, আর তার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোট বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা কার্যত ফ্যাসিবাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে। তবে জনগণ আর কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেবে না। সারজিস আলম দাবি করেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এ সময় জোটের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, এনসিপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগ কর্মসূচিতে সহিংসতা ঘটেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় একটি এতিমখানা পরিদর্শনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে, যা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনসিপি অভিযোগ করেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই হামলায় জড়িত। এতে জোটের অন্তত দুই কর্মী গুরুতর আহত হন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী সময় পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এসব হামলা প্রমাণ করে, দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনে টানা চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতির ধারণা আর কার্যকর থাকবে না। জনগণ এবার নির্যাতন, দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রায় দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, দেশে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের পরিপন্থী। সারজিস আলম বলেন, হুমকি দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের মানুষ এখন সচেতন, তারা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে। এ সময় জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।