আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গাজীপুরের তিনটি আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আলম হোসেন বিষয়টি জানিয়ে দেন।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনে যথাযথ ডকুমেন্ট না থাকায় জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মোঃ আতিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
গাজীপুর-২ আসনে সর্বাধিক আটজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকা, হলফনামা ও ফলকনামায় ত্রুটি এবং স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে মোঃ আতিকুল ইসলাম, খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া, তাপসী তন্ময় চৌধুরি, মাহফুজুর রহমান খান, ইসরাফিল মিয়া, শরিফুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। কাগজপত্রে ত্রুটি ও নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে গাজীপুরের নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচনে কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য প্রার্থীরাই মাঠে টিকে থাকবেন। গাজীপুর-৪ ও ৫ আসনের মনোনয়ন বাছাই বিকেল ২টা থেকে শুরু হবে।
পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষুব্ধ নেসকোর গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে তারা সড়ক ছাড়েন। জানা যায়, নেসকোর বিসিক ফিডারে ত্রুটি ঠিক করার সময় রবিবার দুপুরে বিদ্যুৎ খুঁটিতে উঠে মেরামতকাজের সময় শাহিন ইসলাম নামে এক লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এই দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বেলা ১১টা থেকে নেই। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন, বাসাবাড়িতে খাবার ও রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে, দোকানপাট ও বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থবির হয়ে গেছে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচায় গ্যাসলাইটার কারখানায় শনিবার লাগা আগুনে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে একজন, ৪৯ বছর বয়সী মঞ্জু বেগম, শনাক্ত হয়েছেন তার ২৬ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির হোসেনের মাধ্যমে। মায়ের পোড়া মরদেহের হাতের মুঠিতে থাকা চাবি ও পোড়া ওড়নার অংশ দেখেই সাব্বির নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি তার মা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নেভানোর পর পোড়া লাশ উদ্ধার করেন। তিনজন নিহত শ্রমিকের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; বাকিদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে কারখানার মালিক পক্ষের সহযোগী ও স্থানীয় নেতা ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিক আকরাম উল্লাহ ও অন্যান্য আসামি এখনও পলাতক। পুলিশ অগ্নিকাণ্ড, হত্যা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) এই ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে, দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ফেনী ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী অভিষেক ও ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের বাগানবাড়ি রোডে নিহাল পল্লী পার্কে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আয়োজন চলে। সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শাহাদাত হোসাইন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. শরীফ ভূঁঞা। অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত সহ-সভাপতি ফিরোজ আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অভিষেক পর্বে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দৈনিক সমকালের সাবেক স্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল রতন এবং ফিরোজ আলমকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণে লাইফ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মোট ৩১টি পরিবারের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শাহাদাত হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এম. শরীফ ভূঁঞা, সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওমর ফারুক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামরুল হাসান নিরবসহ অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে মিজানুর রহমান, শাহাদাত পাঠান, আবদুল আলীম সবুজ, আরিফ উদ্দীন, নজরুল ইসলাম সোহাগ, আজিজ সায়েম, কবি ইকবাল চৌধুরী, রাজু আহমেদ, কবি আতিক বাদল ও আলা উদ্দিন লিংকনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।