বাংলাদেশ

শিল্প বর্জ্যের আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ভালুকা খীরু নদী

Icon
ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশঃ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি

শিল্প বর্জ্যের অব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খীরু নদী আজ ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে পড়েছে। বছরের পর বছর ডাইং ও শিল্পকারখানার অপরিশোধিত কেমিক্যাল বর্জ্য নদীতে ফেলার ফলে খীরুর স্বচ্ছ পানি এখন বিষাক্ত কালো তরলে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষি, মৎস্য, পশুপাখি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ডাইং ফ্যাক্টরি থেকে লাউতি, বিলাইজুড়ি, বেতিয়াহাঙ্গুন, বাধ সাতরা ও রুপির খাল হয়ে গরম ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য নিয়মিত খীরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি দূষিত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই দূষিত পানি ব্যবহারে মাছসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে, গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটছে এবং মানুষের মধ্যে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ বাড়ছে।
কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে নদীর পানি দিয়ে সেচ দিলেও এখন আর কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না। দূষিত পানি পান করে হাঁস, গরু ও ছাগলের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
ভালুকা, ভরাডোবা, মেদুয়ারী ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ডাইং মিলগুলো দিনরাত কালো বর্জ্য খালে ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হবিরবাড়ী এলাকার লাউতি ও বিলাইজুড়ি খাল দিয়ে গরম বর্জ্য প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
একসময় খীরু নদী ছিল এলাকার প্রাণকেন্দ্র। নৌযান চলাচল, মাছ ধরা ও বিনোদনের কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিনের দূষণে নদীটি এখন প্রায় মৃত। রুই, কাতল, বোয়াল, পাবদাসহ বহু দেশীয় মাছ ও কচ্ছপ, উদসহ নানা জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাখির কোলাহলও আর নেই।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। অভিযান বা বর্ষার সময় ইটিপি চালু দেখালেও বাকি সময় অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে এই দূষণ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, ডাইং মিলগুলোর দূষিত বর্জ্য খীরু নদীতে ফেলা সরাসরি পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের শামিল। বারবার অভিযোগ ও কর্মসূচির পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক।
সচেতন মহলের মতে, কারখানাগুলোতে ইটিপি বাধ্যতামূলকভাবে চালু করে আইন প্রয়োগ করা গেলে খীরু নদী আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
ভোলার ভেদুরিয়ায় এক বিধবার ঘর ভাংচুরের চেষ্টা চলাচ্ছে এক ভূমিদস্যু চক্র

    ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চরকালী এলাকায় এক অসহায় বিধবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা ও দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মনিরুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা বেগম পৈত্রিক ও দলিলসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে তা দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। সমাধানের আশায় আয়েশা বেগম একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে জানান। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল তিনি পরিবারসহ বসবাসের জন্য জমির ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক দফা ওই ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আয়েশা বেগম ও তার ছেলে সোহাগ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা আয়েশা বেগমের পুরোনো বাড়ির একটি কক্ষ তালা, টিন ও কাঠ দিয়ে আটকে দিয়ে তাদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী আয়েশা বেগম ও এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  

ভোলা প্রতিনিধি> মে ১, ২০২৬ 0

মোরেলগঞ্জে ১৬ বছর ধরে শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি, টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিশ্বমানের ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রীজ নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত ট্রাকে অগ্নিকাণ্ড

ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বিতরণে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

  বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দরিদ্র জেলের জন্য সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গরু না পাওয়ার ঘটনায় ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দেওয়ায় তালিকাভুক্ত জেলে তারাপদ বিশ্বাস বরাদ্দের গরু থেকে বঞ্চিত হন এবং ওই গরু পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ও বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফকিরহাট উপজেলার জেলেদের মাঝে গরু (বখনা বাছুর) বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জেলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে একটি গরু বরাদ্দ থাকলেও সেটি তাকে দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত গরু দেওয়ার শর্তে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গরু অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি বিক্রি করা হয়েছে। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের মাধ্যমে তাদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, তিনি অফিস খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু গ্রহণ করেন, পরে জানতে পারেন সেটি তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযুক্ত স্থানীয় ব্যক্তি মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে দায়ী নন এবং গরু বরাদ্দ ও বিতরণের সিদ্ধান্ত মৎস্য অফিস থেকেই হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, প্রকৃত জেলে উপস্থিত না থাকায় কার্ড যাচাই করে অন্য একজনকে গরু দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের পর মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

ফকিরহাট প্রতিনিধি মে ১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত

ছবি: প্রতিনিধি

শেষ বয়সে আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরে জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতা নিয়ে অ্যাডভোকেসি সংলাপ

ছবি: প্রতিনিধি
একইদিনে পাগলা কুকুরের কামরে ১৪ জন আহত

  বরিশালের গৌরনদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনেই ১৪ জন ও বিড়ালের কামড়ে একজনসহ মোট ১৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার টরকী, বিল্বগ্রাম, শাওড়া, সুন্দরী, বার্থী, কটকস্থল, বাউরগাতি ও মাগুরাসহ একাধিক এলাকায় আকস্মিকভাবে কুকুরের আক্রমণে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন বলে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে কটকস্থল, সুন্দরদী, টরকী, বাউরগাতি ও আশপাশের গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। একইদিন গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিড়ালের কামড়ে আরও একজন আহত হয়ে চিকিৎসা নেন। এর আগের দিন (২৯ এপ্রিল) আরও কয়েকজন কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সমিরন হালদার জানান, আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।  

বরিশাল এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0

রাস্তার পাশে এসএসসি পরীক্ষার খাতা উদ্ধার

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে স্কুল মাঠ সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ক্রীড়ামোদীদের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট

0 Comments