নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় মৎস্যজীবী লীগের এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মো. শরিফুল ইসলাম (২৫) শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে যোশর ইউনিয়নের জানখাঁরটেক গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে শরিফুলের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান তার চাচাতো ভাই শাকিল মিয়া (২৩)। হামলায় শরিফুল গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি থামাতে গেলে তাদের চাচা জহিরুল ইসলামও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শরিফুলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শিবপুর মডেল থানার পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শাকিলের বাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বসতপুর গ্রামে পরকীয়া ও অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ইকরামুল কবির (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর গোয়ালঘরের মেঝের নিচ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ঢালাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত ইকরামুল যশোরের পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) ও ফরহাদ হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বসতপুর পূর্বপাড়ার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় আগে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মুন্নীর বাড়িতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বসতঘরের গোয়ালঘর থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মেহেরপুরে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এক রিকশাচালককে তার খালাতো ভাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শেখ পাড়া, মেহেরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন (৪৫) ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ এবং পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত কালু আকস্মিকভাবে পেছন থেকে হামলা চালায়। এ সময় নিহতের স্ত্রী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রীনা খানম, তাসলিমা আক্তার ও নাসরিন আক্তার। এর মধ্যে নাসরিন আক্তারকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর দুইজন রীনা খানম ও তাসলিমা আক্তারকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযানে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করেন। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।