ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে আবারও ফিরে এসেছে এক সময়ের পরিচিত দৃশ্য—কাপড়ে হাতে লেখা ব্যানার। ডিজিটাল প্রিন্টের দাপটে হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায়।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারে ডিজিটাল ব্যানারের পরিবর্তে কাপড়ের হাতে লেখা ব্যানারের ব্যবহার বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী আর্ট দোকানগুলোর কারিগররা। বিশেষ করে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল রোডে অবস্থিত ‘দাদা আর্ট’-এ এখন কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

দোকানটির কারিগর ওয়াসিম জানান, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে হাতে লেখা কাপড়ের ব্যানারের বিপুল অর্ডার পাচ্ছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় কাপড়ের ব্যানার ব্যবহারের কারণে এই চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “অনেক বছর পর আবার কাজের ব্যস্ততা ফিরেছে। দোকানে অতিরিক্ত লোকও রাখতে হয়েছে।” সাদা কাপড়ে ব্যানার লিখতে খরচ পড়ছে প্রায় ৫০০ টাকা, আর কাপড় সরবরাহ করলে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা।
সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে ডিজিটাল ব্যানারের আধিক্যে ধুঁকছিল এসব হাতে লেখা আর্টের দোকান। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার মুখে পড়লেও এবারের নির্বাচন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে শিল্পী ও কারিগরদের।
সাংস্কৃতিক কর্মী রইচ উদ্দিন বলেন, হাতে লেখা ব্যানার শুধু প্রচারণার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের লোকজ শিল্প ও নান্দনিক ঐতিহ্যের অংশ। পরিবেশবান্ধব এই প্রচারণা পদ্ধতি যেমন দূষণ কমায়, তেমনি স্থানীয় শিল্পীদের সম্মান ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনে।
এবারের নির্বাচন যেন হারিয়ে যেতে বসা হাতে লেখা ব্যানার শিল্পের পুনর্জাগরণের বার্তা বহন করছে—যা পরিবেশ, সংস্কৃতি ও শিল্পীদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
রামপালের কৃতি সন্তান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাইনুল ইসলাম সোহানকে ২০২৬ সালের জন্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দনের মাধ্যমে তাকে বরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি ও কাঁকড়া রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননায় ভূষিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাইনুল ইসলাম সোহান দেশবাসী ও রামপালবাসীর দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবেন। তার এই অর্জনে রামপাল ও বাগেরহাট জেলায় আনন্দ ও গর্বের ছায়া নেমে এসেছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে এই কর্মশালা শুরু হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অনিয়ম বরদাশত হবে না।” উপজেলার ৬১টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনের দিন শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি, পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণের আইন, বিধি ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নির্বাচনী দায়িত্বে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সবকিছু খোলামেলা থাকবে, কোনো লুকোচুরি চলবে না। মিডিয়ার সামনে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্দেশনার পরও কেউ যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হন এবং পক্ষপাতিত্বে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার পরিণতি হবে খুবই কঠোর। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। কমিশনের কাছে কোনো দল বা প্রার্থী ছোট-বড় নয়; আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে দৃঢ় থাকতে হবে। তবে কেবল বলপ্রয়োগ নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। এতে পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।