শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে নকলা–নালিতাবাড়ী মহাসড়কের বাইটকামারী জোড়া ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নকলা উপজেলার ধনাকুশা গ্রামের অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলাম এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার তালুকপাড়া এলাকার ইটভাটা শ্রমিক আরিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নকলা থেকে নালিতাবাড়ীগামী একটি অটোরিকশাকে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি জব্দ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে বালু ও পাথর স্তূপ করে রাখায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে এ এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে উর্দূভাষী (বিহারী) অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছে শিল্প পরিবার ইকু গ্রুপ। শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেলে শহরের বিমানবন্দর সড়কের ইকু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২২টি ক্যাম্পের প্রায় ২ হাজার পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইকু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তিনি নিজ হাতে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইকু গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মো. ইরফান আলম ইকু এবং উর্দূভাষী নেতা মোনায়েম খানসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে মো. সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, ঈদ আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসে সবার জীবনে। সেই আনন্দ অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই তাদের এই উদ্যোগ। তিনি জানান, পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতি বছরই ঈদের আগে দরিদ্রদের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করে আসছে ইকু শিল্প পরিবার এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও ৪ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝেও একইভাবে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে মধ্যরাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানায়, গত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতের একটি তুচ্ছ বাকবিতণ্ডা—চা খাওয়ার বিষয়ে—ঘরে তোলার পর উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র এবং টর্চলাইট নিয়ে একে অপরের ওপর হামলে পড়ে। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমার কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, ফোন করেও পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়নি, যার কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য লড়াইই মূল কারণ। প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
রাত পোহালেই ঈদ। আর এই উৎসবকে ঘিরে নতুন রূপে সেজে উঠেছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবন উপকূলীয় এই জেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একাধিক দর্শনীয় স্থান এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র (মিনি সুন্দরবন) ইছামতি নদীর তীরে প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ম্যানগ্রোভ বন এখন ‘মিনি সুন্দরবন’ হিসেবে পরিচিত। কেওড়া, বাইন, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির গাছে ঘেরা এই স্থান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। ঈদ উপলক্ষে এখানে উন্নত যোগাযোগ, সুপেয় পানি, বিশ্রামাগার, নামাজের স্থান, ইন্টারনেট সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ‘অনামিকা লেক’ ঘিরে নৌভ্রমণ, ঘোড়ায় চড়া ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। মোজাফ্ফর গার্ডেন (মন্টু মিয়ার পার্ক) খড়িবিলায় প্রায় ১২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটি শহরের অন্যতম বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে লেক, প্যাডেল বোট, মাছ ধরার ব্যবস্থা, থ্রিডি থিয়েটার, চিড়িয়াখানা, চিলড্রেন পার্ক ও খেলার মাঠ। ঈদকে সামনে রেখে আলোকসজ্জাসহ বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পিকনিক স্পট ও থাকার আধুনিক ব্যবস্থাও রয়েছে, যা পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা। আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম (মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর) সুন্দরবনের কোলঘেঁষে মালঞ্চ নদীর চরে গড়ে ওঠা এই ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। সারি সারি কেওড়া গাছ, সরু পথ, গোলপাতার ঘর—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা যায়। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে হরিণ, বানর এমনকি রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও। ঈদে বাড়ছে ভিড়, প্রস্তুত প্রশাসন প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এসব পর্যটন কেন্দ্রে হাজারো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রকৃতি আর বিনোদনের মেলবন্ধনে সাতক্ষীরার এই পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঈদে হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।