ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ পরিদর্শন করেন।
সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সমন্বয় ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি 'ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার' এর আওতায় মোতায়েন সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এছাড়া, তিনি ত্রিশালে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহে তার সফরে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
রামপালের কৃতি সন্তান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাইনুল ইসলাম সোহানকে ২০২৬ সালের জন্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দনের মাধ্যমে তাকে বরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি ও কাঁকড়া রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননায় ভূষিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাইনুল ইসলাম সোহান দেশবাসী ও রামপালবাসীর দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবেন। তার এই অর্জনে রামপাল ও বাগেরহাট জেলায় আনন্দ ও গর্বের ছায়া নেমে এসেছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে এই কর্মশালা শুরু হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অনিয়ম বরদাশত হবে না।” উপজেলার ৬১টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনের দিন শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি, পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণের আইন, বিধি ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নির্বাচনী দায়িত্বে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সবকিছু খোলামেলা থাকবে, কোনো লুকোচুরি চলবে না। মিডিয়ার সামনে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্দেশনার পরও কেউ যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হন এবং পক্ষপাতিত্বে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার পরিণতি হবে খুবই কঠোর। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। কমিশনের কাছে কোনো দল বা প্রার্থী ছোট-বড় নয়; আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে দৃঢ় থাকতে হবে। তবে কেবল বলপ্রয়োগ নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। এতে পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।