উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে দ্বিভাষিক নির্বাচনী প্রচারণা। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে বাঙালির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবাঙালি (বিহারি) জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষাতেই জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংয়ে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে। ছন্দে ছন্দে শ্লোগান, বাংলা ও উর্দু গানের মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। সৈয়দপুর শহরে প্রায় দেড় লাখ অবাঙালির বসবাস থাকায় নির্বাচনী মৌসুমে উর্দুতে প্রচারণা নতুন কিছু নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রার্থীরা জানান, বিশেষ করে বয়স্ক অবাঙালি ভোটারদের কথা বিবেচনায় রেখে উর্দুতে মাইকিং ও বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যদিও নতুন প্রজন্ম বাংলা বুঝতে ও পড়তে সক্ষম, তবে অনেক প্রবীণ ভোটার বাংলায় স্বচ্ছন্দ নন।

নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪২৭ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ২১৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
সৈয়দপুর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৪ জন। এর মধ্যে অবাঙালি ভোটার ৭৮ হাজার ৬৭ জন, যা গত নির্বাচনের তুলনায় ২ হাজার ৮৪৬ জন বেশি। অবাঙালি ভোটারদের মধ্যে নারী ৩৯ হাজার ৯৩৪ জন এবং পুরুষ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন।

ঐতিহাসিকভাবে রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে অবাঙালিদের বসবাস শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে তারা এখানকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে তাদের বসবাস রয়েছে। অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নিম্ন আয়ের একটি অংশ এখনও শহরের ২২টি ‘আটকেপড়া’ ক্যাম্পে বসবাস করছে।
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, ভোটাধিকার পেলেও ক্যাম্পবাসীরা এখনো অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের সময় নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।
এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—জাতীয় পার্টির মো. সিদ্দিকুল আলম (লাঙ্গল), জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন (কাঁঠাল), বাসদ (মার্কসবাদী) মাইদুল ইসলাম (কাঁচি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার (ফুটবল), এস. এম. মামুনুর রশিদ (মোটরসাইকেল) ও জোয়াদুর রহমান হীরা (ঘোড়া)।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলার ফয়লাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির রামপাল পশ্চিম শাখা। অনুষ্ঠানে শাখা সেক্রেটারি মো. মুরছালিন শেখের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. জিহাদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম, এইচআরডি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সিনান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সিনিয়র আহ্বায়ক খালিদ হাসান নোমান, মীর সাব্বির এবং ছাত্রদলের রামপাল উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক মোল্লা তারিকুল ইসলাম শোভনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী, সুধীজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইফতার মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি যুবকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন নিজের থেকে বেশি শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সংসদ সদস্য হাসনাত জানান, বিয়ের সময় মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিয়ে করলে স্ত্রী যেন স্বাবলম্বী হয়, নিজের ও সন্তানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাই নিজের থেকে কম শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করার পরামর্শ কখনো গ্রহণ করব না।” তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় যুব সমাজে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রাঙ্গণে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ মার্চ নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে তারা সংসদে যোগ দেবেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যারা ভারতে গ্রেফতা হয়েছে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডটি শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা উচিত। সরকারের সাম্প্রতিক সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি রোধ করা না গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাবে না।