মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলও এই পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে ইরানের শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বিপরীতে তেহরান ঘোষণা করেছে, যেকোনো হামলা পুরোপুরি যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে গণ্য হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিত্রকে জানিয়েছে, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এই হামলা মূলত ইরানি সরকারের নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ক্ষমতা ক্ষয় করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা—শীর্ষ নেতৃত্বে সফল হামলা হলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং সরকার উৎখাত হবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন হামলা যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক আগ্রাসন শুধু দ্বিপাক্ষিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিতে ইরানি জাতি ভীত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান কখনোই আগ্রাসনের সূচনা করবে না; তবে দেশটির ওপর হামলা হলে কঠোর ও অনুপাতে জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেহরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন না করে এমন ন্যায্য আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত। এদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত নয়, বরং নেতৃত্বকেন্দ্রিক সামরিক অভিযান অনুমোদন দিতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো নয়; বরং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সরকার পরিবর্তনের কৌশল বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
মার্কিন কংগ্রেসে শেষ মুহূর্তের সমঝোতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ফের আংশিক সরকারি শাটডাউন কার্যকর হয়েছে। সিনেটে তহবিল–সংক্রান্ত বিল অনুমোদন পেলেও প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এই অচলাবস্থা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থার জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলেও অভিবাসন ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থায়নে আপত্তি তোলেন। ফলে ওই বিভাগকে আপাতত দুই সপ্তাহের জরুরি তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এটি এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শাটডাউন। হোয়াইট হাউস প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগকে শাটডাউন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে বিলটি দ্রুত পাস হবে বলে প্রশাসনের আশা।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের ভারী বর্ষণের পর সংঘটিত ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিম বান্দুং এলাকার পাহাড়ি ঢালে মাটি ধসে পড়ার কারণে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাটির অনিয়মিত স্তূপের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবার উদ্ধার অভিযানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।