কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের ধারালো দা দিয়ে বাবাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের দড়িজাহাঙ্গীরপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রমজান আলী (৪৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড় ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫) নেশার টাকা দাবি করে বাবার সঙ্গে ঝগড়া করেন। টাকা না দেওয়ায় জুয়েল দা দিয়ে রমজান আলীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে এবং পুলিশকে খবর দেয়।
গুরুতর আহত রমজান আলীকে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ভোর ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো দাও উদ্ধার করা হয়েছে।
তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে হত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের কোরুইল্লার টেক ব্রিজের নিচে একটি ধানক্ষেত থেকে ইসমাইল হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখের ছেলে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত হত্যার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরব্দী ইউনিয়নে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ মোস্তফা সিকদার নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৪১ বীরের একটি দল মেজর কাজী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬০ জন সদস্য নিয়ে চর কুশুরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ১২টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ৩টি মোবাইল ফোন, ২টি স্মার্টফোন ও ১টি বেসিক ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুর রহমান সিকদারের ছেলে। সেনাবাহিনী জানায়, আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযান সম্পর্কে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক দমনে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চার মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মোড় এলাকায় গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফকিরহাট আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সরদার আরিফুজ্জামান (৪৫), সাইফুল ইসলাম হিরক (৩৫), মো. ইমরান মোল্লা (৩০) ও মো. ফরহাদ শেখ (৩২)। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ৭টি স্মার্টফোন, ৪টি বাটন মোবাইল, নগদ ৬ হাজার ৪১৩ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত আলামতসহ আসামিদের ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।