ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে আজ নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুরে পৌঁছে সরাসরি জনসভায় ভাষণ দেবেন।
এটি ফরিদপুরে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক জনসভা। জেলা বিএনপির উদ্যোগে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সমাবেশে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সংসদীয় আসনগুলোর বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
জনসভা ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এ জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাতক্ষীরার-৩ (কালিগঞ্জ ও আশাশুনি) আসনের বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের বল প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে কালিগঞ্জের ১৬ ও আশাশুনির ১২ জন নেতা-কর্মীর বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের সুপারিশ এবং জেলা আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের অনুমোদনে। বিএনপির সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই দেশের কিছু গুপ্ত সংগঠনের নেতারা নতুন জালিম হয়ে উঠেছে, যাদের কাছে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মাধ্যমে। কিন্তু কিছু গুপ্ত নেতা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, নারীদের অসম্মান করছে। তারা ক্ষমতায় এলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হবে।” তারেক বলেন, এই গুপ্ত নেতারা আগেও স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে। তারা ৭১, ৮৬, ৯৬ ও গত ১৫ বছরে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। “যারা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই,” যোগ করেন তিনি। বরিশালের নদী ভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি জিতলে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।” চেয়ারপারসন আরও বলেন, নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করতে হবে, তা না হলে উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। গুপ্ত দলগুলোর বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও আচরণ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। ‘আগামী ভালুকার ইশতেহার’ শীর্ষক ঘোষণায় তিনি ১২ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেন। শাপলা কুঁড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে চান। তার ইশতেহার ভালুকার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভালুকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের ১২ দফার মধ্যে রয়েছে— রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও বনায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১০০ শয্যার আধুনিক উপজেলা হাসপাতাল ও মোবাইল ক্লিনিক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ক্ষমতায়নে আইটি প্রশিক্ষণ, স্মার্ট কৃষি, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ ও সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং মাসিক গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি প্রতি মাসে জনগণের সামনে কাজের হিসাব তুলে ধরবেন। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।