সাতক্ষীরার শ্যামনগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
শ্যামনগর কৈখালী বিওপির নায়েক সুবেদার মোঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি টহল দল ভারত সীমান্তবর্তী গোলাখালীতে চিংড়ী ঘেরে মাটিতে পুঁতে রাখা অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে: ১২টি ইয়ারগান, ১৫ বক্স গুলি, ৭টি স্প্রিং, ৪০টি পিস্টন হোল্ডার এবং ১৬টি এলকে রেঞ্জ, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্ত্র চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
রিভাইরাইন বর্ডারগার্ড কোম্পানী নীলডুমুর অতিরিক্ত পরিচালক লে. কমান্ডার মোঃ আব্দুর রউফ (এন) জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব অবৈধ অস্ত্র দেশে আনা হয়েছিল। সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চোরাকারবারীদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।
চলতি শুষ্ক মৌসুম শেষ হতে না হতেই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরবাসীর মনে দেখা দিয়েছে পুরনো শঙ্কা—বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান নেওয়া হয়নি। ফলে এবারের বর্ষা শুরুর আগেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন খাল অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনের মতো হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শংকর বংশী খাল, যা পৌরসভার প্রধান পানি নিষ্কাশন মাধ্যম, সেটিও দখল ও দূষণের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। ফলে বাজারসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই খালগুলো দখলমুক্ত করা এবং জমে থাকা ময়লা অপসারণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাসের এই পৌরসভায় দিন দিন বাড়ছে বহুতল ভবন, যার পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি নির্ভর করে ড্রেনের ওপর। কিন্তু খালগুলোতে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ড্রেন উপচে রাস্তায় পানি উঠে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে ড্রেন ও খালের অবস্থা মূল্যায়ন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষার আগেই পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে অন্তত এ বছর কিছুটা হলেও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলতে পারে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ঈদের ছুটিতে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে খালাতো ভাই-বোন দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সন্ন্যাসীর চক গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো পশ্চিম তারালী গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে জাকারিয়া হোসেন (১০) এবং পূর্ব নলতা গ্রামের আহসান আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (৮)। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই-বোন। জাকারিয়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এবং জান্নাতুল একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারা রোববার সকালে সন্ন্যাসীর চক গ্রামে তাদের নানা আবদুল আজিজের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিখোঁজ হয় তারা। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বেলা আড়াইটার দিকে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে তাদের নিথর দেহ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করলেও ততক্ষণে দুই শিশুরই মৃত্যু হয়। কালিগঞ্জ থানার ওসি জুয়েল হোসেন জানান, খেলার সময় অসাবধানতাবশত ঘেরের পানিতে পড়ে গিয়ে এবং সাঁতার না জানায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এসআই কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমস্যা ও সড়কজুড়ে দীর্ঘ লাইনের মধ্যেই এক বিয়ের অনুষ্ঠানে জন্ম নিলো বিরল দৃশ্য। সদরের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে বর রাতুল হাসান সাফি হাতে পেয়েছেন ৫ লিটার অকটেন। উপস্থিত অতিথিদের চোখে কৌতূহল এবং হাসির সঞ্চার ঘটেছে এই ব্যতিক্রমী উপহারের কারণে। উপহারদাতা জহিরুল ইসলাম জানান, দৈনন্দিন কাজের জন্য তেলের ঘাটতি এবং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরিস্থিতিতে বর-কনের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে এই অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন তেলের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সেই সময় বর-কনে যাতে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে, তাই এ ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” অতিথিরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময় এমন উপহার শুধু মজার নয়, বরং ব্যবহারিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বর রাতুল হাসান সাফি মন্তব্য করেন, “অকটেন হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে আমাদের কাজে আসবে। এটি সত্যিই একটি স্মরণীয় এবং প্রাসঙ্গিক উপহার।” এই ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনে পড়া অসুবিধারও একটি অনন্য প্রতিফলন হয়ে দেখা দিয়েছে।