ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সহায়ক শক্তি হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। তারা ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত, সহিংসতা প্রতিরোধ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
গাজীপুর-৫ আসনের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সেনাসদস্যরা পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী পুরোপুরি নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করবে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি দূর করতে ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সেনাবাহিনী এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য নির্বাচন নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে সেনাবাহিনী বিচারিক ক্ষমতা পায়নি এবং তারা কোনো বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর-৫ আসনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফেনী জেলা জজ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এক নারী বিচারপ্রার্থীর বিষপানের ঘটনায় আদালতপাড়াজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাবিননামা সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে স্বামীর জামিন মঞ্জুরের পর বিচারকের এজলাসেই তিনি বিষপান করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। রোববার (১০ মে) দুপুরে ফেনী জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অধীন ফুলগাজী আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী ২০২৫ সালে চার সন্তানের জনক আকবর হোসেনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে কাবিন আদায়ের মামলা দায়ের করেন। রোববার মামলাটির শুনানির দিন ধার্য ছিল এবং বাদী-বিবাদী উভয়েই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানি শেষে আদালত বিবাদীকে জামিন দিলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই নারী। পরে আদালত কক্ষে বিচারকের সামনেই বিষপান করেন তিনি। নারীর পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে টেলিফোনে তার স্বামী তাকে ‘মরে যেতে’ বলেছিলেন। সেই মানসিক চাপ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেন বলে পরিবারের ধারণা। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সোহেল (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল ওই এলাকার শুকুর মামুদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বৃষ্টি শুরুর আগে প্রচণ্ড বাতাস ও বজ্রপাত চলাকালে বাড়ির পাশে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় তিনি বজ্রপাতে আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মা জবেদা বেগম বলেন, দুই বছর আগে ছেলের বিয়ে হয়, তার ৭ মাসের একটি সন্তান রয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে চরফকিরা ইউনিয়ন-এর ফকিরের তাকিয়া শাহি জামে মসজিদ-এ এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ নবী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মসজিদের একাধিক তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দানবাক্স থেকে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ইমামকে একটি কক্ষে আটক রেখে তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ বিষয়ে থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।