ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীরা জিতেছেন। এর মধ্যে বরিশাল-২, ৩ ও ৪ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। বরিশাল-১ তৃতীয়বার, বরিশাল-৫ পঞ্চমবার, এবং বরিশাল-৬ দ্বিতীয়বারের জন্য জয়ী হয়েছেন।
বিস্তারিত ফলাফল:
বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বিজয়ীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রমাণ নিশ্চিত করেছেন। সব আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেয়ালঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ বি এম সিরাজুল মামুন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। মামুন বলেন, ঘোষিত ফলাফল নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পরাজয় মেনে না নেওয়ার সংস্কৃতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে জানান, জনগণের চাপেই তিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন-এ আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন তার এজেন্টদের হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। প্রধান এজেন্ট হাফেজ কবিরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গাড়িচালকের কাছ থেকে অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন। তবে এজেন্টদের অর্থ প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এমন কোনো প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি ও যানজটমুক্ত একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলায় কাজ করা হলে তিনি এবং এগারো দল গঠনমূলক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর বিএনপির এই ভুমিধ্বস বিজয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, সুন্দরবনের সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় মানুষের উন্নয়নে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে তার বিকল্প নেই। ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত। ‘সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে বনজীবী, মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিনামূল্যে চক্ষু শিবির পরিচালনা করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বন ও পরিবেশের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, “প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এই বিজয় আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে এলাকার স্বার্থ উপস্থাপন করবেন।” সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু এবং ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম শেভনও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে তার নিয়োগের পক্ষ নিয়ে মত ব্যক্ত করেছেন। ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিজ বক্তব্যে বলেন, “এই বিজয় শুধু আমার নয়, এটি বাগেরহাট-৩ আসনের মানুষের। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।” বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোংলা সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বরিশালে ফুলের বাজারে ফিরেছে উৎসবের রঙ। সকালে থেকেই নগরীর ফুলের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে বরিশাল নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক-এর অন্তত ছয়টি ফুলের দোকানে দেখা যায় ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। প্রিয়জনকে উপহার দিতে লাল গোলাপ কিনতেই বেশি আগ্রহী ক্রেতারা। পাশাপাশি গাঁদা, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও নানা রঙের ফুলের তোড়াও বিক্রি হচ্ছে ভালোই। তবে ক্রেতাদের একটি অংশের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় এবার ফুলের দাম প্রায় দ্বিগুণ। বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে প্রভাব পড়েছে। মান ও আকারভেদে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, আর বিভিন্ন ডিজাইনের ফুলের তোড়া পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। ফুল বিক্রেতারা বলছেন, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস একসঙ্গে হওয়ায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে, তবে আগের মতো পহেলা ফাল্গুনের জাঁকজমক আর নেই। তাদের আশা, বিকেলের পর ভিড় আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বরিশালের ফুলের দোকান ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও আবেগের টানে ফুল কিনছেন মানুষ।