পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ডিএইচএ ফেজ-২ এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক ঘটনায় জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সানা জাভেদকে গুলি করে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ সাদিক আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি হুমাক থানাধীন একটি মার্কেটের পার্কিং এলাকায় ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত সানা জাভেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আউট লোফারা’ নামে পরিচিত ছিলেন। অভিযুক্ত সাদিক আটক জেলার বাসিন্দা এবং তিনি পূর্বে পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত থাকলেও শৃঙ্খলাজনিত কারণে বরখাস্ত হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনা অনুযায়ী, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একজন নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময় এক যুবক পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ও ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে শান্তি উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াশিংটন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। খবর ‘ইউএসএ টুডে’-এর। সূত্র জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রেরিত ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতকরণ এবং হরমুজ প্রণালী পুনঃউদ্বোধনের শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। একই সময়ে পেন্টাগন জানিয়েছে, ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার থেকে ৩ হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং বিদ্যমান নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি নেতাদের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত’ সমাধান সম্ভব এবং ইরান ইতোমধ্যে তেল-গ্যাস নিয়ে বড় ধরনের ‘উপহার’ দিয়েছে। ইরান সরকার এই দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালায়। পাল্টা হারে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসেরও কম সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জ্বালানি বাজারে গুরুতর অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শুমার বলেন, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তই প্রধানত দায়ী। তিনি উল্লেখ করেন, অপ্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। ডেমোক্রেটিক দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলমান সংঘাত রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে এবং তা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা দিচ্ছে, যার প্রতিফলন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানি দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। আইআরজিসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন রয়েছে, যা তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই হামলাগুলোকে তারা ওই ঘাঁটিকে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন ও অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।