মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মো. জালাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার তালুকনগর বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জালালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জালালের ভাই মো. জুয়েল রানা দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে মো. ইমরান মিয়া (৩৫), জাহিদ হাসান (২৫), আলামিন মিয়া (২৬), রাজিব মিয়া (২৭), ফজলুর রহমান শাহিন (৫০) ও আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জালাল হোসেন স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তখন পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্রসহ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে জালালের শরীর ও ডান পায়ের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

দৌলতপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে এক ট্রাকচালককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ট্রাকচালকের নাম হান্নান (৪৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে উপজেলার বিননালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় একটি গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হান্নানকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজবের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে শুক্রবার (৯ মে) রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে মো. সাজেদুল মৃধা (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ বিননালিয়া মৃধাডাঙ্গী গ্রামে। তার পিতার নাম মো. অহিদ মৃধা। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই সনাতনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রশাসন গুজবে কান না দিয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে রসালো আমের কেনাবেচা। ভ্যান, ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আম এনে বাজারে সাজানো হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দফায় দফায় দরাদরি ও বেচাকেনা। বর্তমানে জেলায় আম পাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন নতুন রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ চলছে। চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, শুরুতে বাজারে দাম ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাইব্রিড ধানের ফলন বাড়াতে আধুনিক উৎপাদন কৌশল বিষয়ক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের কৃষিবিদ মোস্কাফিজুর রহমান এবং টিএসও সুজিত মন্ডল। বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে মাঠ পর্যায়ে এই জ্ঞান প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।