ফরিদপুরের সদরপুরে বিষধর সাপের দংশনে আহত এক যুবককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি রিপন শিকদার (৩৫), পেশায় একজন দোকানদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ দোকানের একটি বয়ামে হাত দেওয়ার সময় ভেতরে অবস্থানরত একটি গোখরা সাপ তাকে দংশন করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় দংশনকারী সাপটিকেও সঙ্গে নিয়ে আসায় হাসপাতাল এলাকায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. এফতেখার জানান, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে; তবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আমিন (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে পলাশবাড়ী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পথচারীর সঙ্গে ধাক্কার পর মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক সাইকেল আরোহীকে আঘাত করে এবং পরে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনায় চালক আমিন, তার পেছনে থাকা মুরাদ (১৮)সহ আরও একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার হিসাবে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ।
বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা আহসান শাহরুখের বাবার মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় জেলগেটেই বাবার মরদেহের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় আহসান শাহরুখের বাবা আবুল বাশার মারা যান। এর কিছুদিন আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন শাহরুখ। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও প্রশাসন তা অনুমোদন না করে জেলগেটেই সাক্ষাতের নির্দেশ দেয়। স্বজনদের দাবি, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সিদ্ধান্তে অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগার থেকে জেলগেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সীমিত সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে বাবা–ছেলের শেষ দেখা সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মানবিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় তারা চরম কষ্টের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, একাধিকবার অনুরোধ করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। জেলগেটে মাত্র তিনজনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যা মরদেহ বহনের প্রয়োজনীয়তার তুলনায় অপ্রতুল ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিন্টু জানান, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও প্রশাসন জেলগেটে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলগেটেই সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।