ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণের ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে সাভার পরিবহণে ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ড্রাইভার মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) এবং ড্রাইভারের সহযোগী মো. রাব্বি (২১)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাসে থাকা কলেজছাত্রীকে যাত্রীরা নামার পর আটকে রাখা হয়, তার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে রাতভর যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়।
ঢাকা-টাঙ্গাইল করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি হাইওয়ে পুলিশ আটক করে, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি জানতে পারে। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এ ঘটনা দেশের মহাসড়কে চলমান সন্ত্রাস ও নারী নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
যশোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি শহরের বেজপাড়া এলাকায় ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সকিনা বেগম (৬০)-এর মরদেহ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে বাসার সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করলে পরিবারের সদস্য মরিয়ম খাতুনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি দোকানে বের হওয়ার আগে বাসায় ছিলেন শাশুড়ি ও স্ত্রী। সন্ধ্যায় ফিরে এসে শাশুড়িকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গভীর রাতে বাসার সামনে বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মরিয়ম খাতুন পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ।
নওগাঁ ও কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় সাতজনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে ও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত এ দুটি ঘটনায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নওগাঁ-এর নিয়ামতপুর উপজেলাে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, আর্থিক লেনদেন ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। অন্যদিকে, কক্সবাজার-এর টেকনাফ উপজেলাে বাহারছড়া ইউনিয়নের গহিন পাহাড়ি এলাকায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে। উভয় ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মৎস্য অধিদপ্তর-এর অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ গলদা চিংড়ির রেনুপোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ এপ্রিল রাত থেকে ২০ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত মেঘনা নদী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩৫ হর্সপাওয়ারের একটি ট্রলার থেকে ১৪টি ড্রাম ভর্তি আনুমানিক ৫ লাখ ৬০ হাজার গলদা চিংড়ির রেনুপোনা জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরে এসব রেনুপোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয় এবং ট্রলারসহ পরিবহনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এদিকে একই অভিযানে জাটকা ও পাঙ্গাশের পোনা ধরার অপরাধে ৩৫ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বরাল।