টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি চিঠিতে বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক বিসিবির অবস্থানকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব ঘিরে আলোচনা জোরদার হওয়ায় আইসিসি বুধবার বোর্ড সভা ডেকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পিসিবির চিঠির কারণেই সভা আহ্বান করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আইসিসি এখন পর্যন্ত সূচি পরিবর্তন বা ভেন্যু স্থানান্তরে অনড় অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার সমর্থন নিয়ে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, দলকে ভারতে পাঠানো হবে না।
এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই অবস্থান পরিবর্তন করেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইসিসি, আগামী ২৫ থেকে ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বোর্ড সভা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করেছে। কাতারের ক্রীড়া কাঠামো ও ক্রমবর্ধমান ক্রিকেট আগ্রহের কারণে এই শহরকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণেই সভা পরবর্তী কোনো সময়ে পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ ও ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের মধ্যে এই সভা আয়োজনের পুনঃচেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, রোববার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপভোগ করবেন।
দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর দেশে প্রত্যাবর্তন ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার দলে ফেরা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও প্রত্যাশা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন, যা আলোচনাকে আরও জোরদার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অংশ নিতে পারেন। তবে সাকিব নিজেই এ তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাকিব জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমে তাকে দলে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অন্যান্য আইনি বিষয় প্রসঙ্গে বিসিবি সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরকারের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, অচিরেই বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে নিষ্পত্তির পথে অগ্রসর হবে।
বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখলেও এর জন্য বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা খেলাসংক্রান্ত জরিমানা আরোপ করা হবে না। আইসিসি আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিসিবির অবস্থান তারা নোট করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থা সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য, বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে দেশের অবদান তুলে ধরে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার প্রচলিত নীতিমালা ও আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ার আওতায় বাস্তবায়িত হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।