চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘জঙ্গল সলিমপুর’ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে একাধিক সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত গ্রুপ প্রায় চার দশক ধরে এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
পাহাড় কেটে জমি সমতল করে প্লট আকারে বিক্রি, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাটি কার্যত একটি ‘নিষিদ্ধ ভূখণ্ডে’ পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রীয় আইন নয়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিজস্ব বিধিই কার্যকর বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর থেকে জঙ্গল সলিমপুরের একক নিয়ন্ত্রণ নিতে যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাটির পূর্বে হাটহাজারী ও দক্ষিণে বায়েজিদ থানা অবস্থিত। প্রবেশপথে লোহার গেট ও পাহাড়ের ঢালে ঢালে পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিচয় ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে অবস্থিত এ এলাকা ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও অপরাধ কাঠামোয় অত্যন্ত সংগঠিত।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি নিয়ে বিস্তৃত এ এলাকার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই জমির দখল ও বাণিজ্য ঘিরেই ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি বড় সংঘর্ষ ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২৭ থেকে ৩৫ জন আহত হন।
সর্বশেষ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে জঙ্গল সলিমপুরকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে সেখানে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি শাখা রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে দুইটার দিকে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং তেলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় সাবেক সদস্য নয়নের মৃত্যু ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা অভিযোগ করেছেন, ডিবি কার্যালয়ে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ রয়েছে।
নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় ফোনের পরিচয় সূত্রে দেখা করতে গিয়ে এক চার সন্তানের মা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রিদয় মিয়া (৩২) নামের একজনকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগীর মোবাইলে রিদয় মিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে বাজার থেকে ঘরে ফেরার পর তিনি একা রিদয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। রাস্তায় সংলাপের একপর্যায়ে রিদয় তাকে পুকুরপাড়ের দিকে টেনে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণকারী রিদয় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় কারখানায় আশ্রয় নেন এবং তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ রোববার (৮মার্চ) গ্রেফতার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করবে। এই ঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পরিধি বাড়ানো হয়েছে, এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় এক ছিনতাইকারীকে জনতা ধরে গণধোলাই দিয়েছে এবং পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মাইন উদ্দিন (৩২)। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিনি এরশাদনগরের ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার (০৪ মার্চ) রাতের ঘটনায় মাইন উদ্দিন ও তার দুই সহযোগী পথচারীকে লক্ষ্য করে ছিনতাই শুরু করলে একজন ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত করা হয়। জনতার তৎপরতায় একজন ছিনতাইকারী আটক হয়, বাকি দুইজন পালিয়ে যায়। গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে আটককের হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়। ভুক্তভোগীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, জনতার হাতে আটক মাইন উদ্দিন এখন পুলিশ হেফাজতে আছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।