বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখলেও এর জন্য বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা খেলাসংক্রান্ত জরিমানা আরোপ করা হবে না। আইসিসি আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিসিবির অবস্থান তারা নোট করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থা সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য, বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে দেশের অবদান তুলে ধরে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার প্রচলিত নীতিমালা ও আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ার আওতায় বাস্তবায়িত হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের স্থান গ্রহন করেছে স্কটল্যান্ড। আইসিসি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে, গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে। স্কটিশরা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ম্যাচের আগে দলের স্পিনার মার্ক ওয়াট বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি আমরা গভীর সহমর্মী, তবে আমাদের উপস্থিতি এই টুর্নামেন্টে নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যে কোনো দলকে হারাতে সক্ষম এবং পুরোপুরি প্রস্তুত।” স্কটল্যান্ডের এই অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের গতিশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যেখানে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকেও চমক দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছে দলটি।
বাংলাদেশকে ২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে আসিফ নজরুল বলেন, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখার প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে আইসিসি দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় এবং পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত যৌক্তিক আশঙ্কা উপেক্ষা করেই আইসিসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনের ব্যাখ্যা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ক্রিকেটের মাঠে রাজনীতির অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এই অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, “খেলার মাঠ রাজনীতিমুক্ত থাকা উচিত। এই নীতিগত অবস্থান থেকেই ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোকে সরকার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ আমলে না নিয়ে আইসিসি দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। যদিও সিদ্ধান্তটি আগেই জানানো হয়েছিল, এর পেছনের যুক্তি এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরল পাকিস্তান সরকার। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত থাকলেও পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট করেছে, সেই ম্যাচে দল মাঠে নামবে না। আইসিসি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিসিবি নেতৃত্ব অতীতের মতো এবারও আইসিসির নীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি করা আচরণকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)-কে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে ফেলেছে। পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকে প্রতিক্রিয়া জানাবে আইসিসি। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে তথ্য দেয়নি, তবে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকার আজই ই-মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাবে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্বাচিত কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া হলে তা টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও চেতনা ক্ষুণ্ন করবে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সীমাবদ্ধতা। আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্প্রচারক সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য পিসিবিকে দায়ী করা হতে পারে এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট বিশ্ব ক্রিকেট এবং কোটি কোটি ভক্তদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নতুন বিতর্কে জড়াল। বিশ্ব ক্রিকেটারদের স্বতন্ত্র অধিকার ও অংশগ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে ক্রিকেটার সংগঠন ডব্লিউসিএ আইসিসিকে কঠোর সমালোচনা করেছে। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো নতুন শর্তাবলি ২০২৪ সালের চুক্তির সঙ্গে মিলছে না এবং এতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নাম, ছবি ও তথ্য ব্যবহারের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষত যেসব খেলোয়াড় আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর একপক্ষীয় শর্ত চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে। আইসিসি পাল্টা দাবি করেছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য, বাকিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে ডব্লিউসিএর মতে, চুক্তি সকল সদস্য খেলোয়াড়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এতে খেলোয়াড়রা গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পূর্ণ অধিকার রাখতে পারবেন। ডব্লিউসিএ প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বলেছেন, আইসিসির নতুন শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকার হরণ করছে এবং “বিশেষ করে নিম্নবেতনপ্রাপ্ত বা অপেশাদার খেলোয়াড়দের শোষণমূলক” পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠন বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চাইছে না, তবে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ মুহূর্তে আইসিসি এখনও ডব্লিউসিএর নোটিশের জবাব দেয়নি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে চলমান বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পর্যায়েও প্রতিফলিত হলো। ব্রিটিশ ক্রিকেটবিষয়ক সাময়িকী দ্য ক্রিকেটার প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় আইসিসি স্বীকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগগুলোর মধ্যে বিপিএলকে সর্বনিম্ন অবস্থানে রাখা হয়েছে। বিনোদনমূল্য, খেলার মান, গ্রহণযোগ্যতা ও সামগ্রিক অবস্থান—এই চারটি মানদণ্ডে বিশ্বের ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মূল্যায়ন করে এ র্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিনটি সূচকে বিপিএলের অবস্থান দশম এবং স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে নবম। সামগ্রিক বিবেচনায় ভারতের আইপিএল শীর্ষে রয়েছে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি। বিপিএলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কার এলপিএল ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও। দ্য ক্রিকেটার–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এলপিএল ও বিপিএল তুলনামূলকভাবে কম রেটিং পেয়েছে। প্রতিবেদনে এই দুটি লিগকে সবচেয়ে দুর্বল ব্যবস্থাপনাসম্পন্ন আসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫–২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আলীমুজ্জামান। খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোল্লা খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, বিসিবির জেলা ও দলীয় প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক এবং অংশগ্রহণকারী দলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেশ ত্যাগের গুজব উড়াল দেওয়ার পরে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গুজবকে ‘মিথ্যা’ ঘোষণা করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে বুলবুল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিসিবির কাজের চাপের কারণে তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। বুলবুলের বক্তব্য, “আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আগ্রহ কেন? আমার অবস্থান জানানো কি সত্যিই জরুরি?” তিনি আরও বলেন, “কি মনে হচ্ছে, আমি কি দেশের বাইরে?” বিসিবি সভাপতির পরিবার বহু বছর ধরে মেলবোর্নে বসবাস করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি বেশ কয়েকবার মেলবোর্নে গিয়ে অনলাইনে অফিস পরিচালনা করেছেন।
ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইসিসির স্থিতিশীল অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ স্থগিত থাকছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভারতের মাটিতে দল পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, এটি কোনো অনুমান নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির পেছনে বাস্তব ঘটনার প্রমাণ রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, দেশের একজন সেরা খেলোয়াড়কে ভারতের উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএল থেকে সরানো হয়েছিল, যা নিরাপত্তা ঝুঁকিকে বাস্তব প্রমাণিত করে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ভারতে যাওয়া হবে না। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বৈঠকে বিসিবিকে ভারতের ভেন্যুতে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য একদিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে আজ ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি নিশ্চিত করেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাহ্য করে চূড়ান্তভাবে ভারতের মাটিতে অংশ নেওয়া হবে না।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি চিঠিতে বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক বিসিবির অবস্থানকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব ঘিরে আলোচনা জোরদার হওয়ায় আইসিসি বুধবার বোর্ড সভা ডেকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পিসিবির চিঠির কারণেই সভা আহ্বান করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আইসিসি এখন পর্যন্ত সূচি পরিবর্তন বা ভেন্যু স্থানান্তরে অনড় অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার সমর্থন নিয়ে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, দলকে ভারতে পাঠানো হবে না। এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই অবস্থান পরিবর্তন করেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একজন কর্মকর্তা সফরে আসছেন। আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ও সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানানো হয় এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই আইসিসির প্রতিনিধি সফরটি নির্ধারিত হয়। এর আগে দুই আইসিসি কর্মকর্তার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও একজন ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা জটিলতায় আসতে পারেননি। আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিশ্বকাপ ভেন্যু, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে, ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থান ও কোয়াবের দাবির প্রেক্ষিতে পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো। বিসিবির সূত্রে জানা গেছে, টাইগার ক্রিকেট বোর্ড শর্ত দিয়েছিল, আজকের মধ্যে খেলোয়াড়রা মাঠে না ফিরলে বিপিএল বন্ধ করা হবে। এর প্রেক্ষিতে আজ (১৫ জানুয়ারি) দিনের সমস্ত ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী ওয়ারিয়রস ও সিলেট টাইটানসের সন্ধ্যা ম্যাচ, পাশাপাশি নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুপুরের ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। বিসিবি নিশ্চিত করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে (১৫ জানুয়ারি) ফ্রাঞ্চাইজিদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতকরণ ও পদক্ষেপের তথ্য জানানো হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ক্রিকেটারদের তীব্র প্রতিবাদ ও বয়কট আলটিমেটামের প্রেক্ষিতে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতের ঘটনায় ক্রিকেটার সংগঠন কোয়াব নাজমুলের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিপিএল ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে নির্ধারিত সময়ে খেলোয়াড়রা বয়কট কার্যকর করেন এবং বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম নাজমুলের দায়িত্ব স্থগিত রাখার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
ক্রিকেটারদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রম হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ করেননি। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটাররা সব ধরনের খেলা স্থগিত রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সূত্র জানায়, নাজমুল ইসলাম সরে না দাঁড়ালে বিপিএলসহ ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এরই মধ্যে বিপিএলের একটি ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দলগুলো মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়নি। এ অবস্থায় প্রথম বিভাগ লিগও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিসিবি কর্তৃপক্ষ নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাইলেও ক্রিকেটাররা পরিচালকের পদ থেকে তাঁর পূর্ণ পদত্যাগ দাবি করছেন। এ বিষয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও আর্থিক ব্যয় নিয়ে নাজমুল ইসলামের দেওয়া মন্তব্যকে অবমাননাকর ও শিষ্টাচারবিরোধী দাবি করে ক্রিকেটাররা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিকল্প সমাধানের প্রস্তাব এলেও সংকট এখনো কাটেনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করেছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল উদ্বেগ সমাধানের মাধ্যমে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের পূর্ণাঙ্গ ও নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বোর্ডের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির পরামর্শকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করবে। বিসিবি স্পষ্ট করেছে, কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘আলটিমেটাম’ সংক্রান্ত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং অসত্য। বোর্ডের লক্ষ্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা এবং নিশ্চিত করা, যাতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বিসিবি আরও জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদার, সহযোগিতামূলক ও গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখবে। বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সন্তোষজনক সমাধান দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় দল বিশ্বকাপের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে আইসিসি। হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বিসিসিআইয়ের লোকসানের সম্ভাব্য তিনটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর সেই জায়গায় অন্য কোনো ম্যাচ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের লোকসানের পরিমাণ হতে পারে ৭ থেকে ৩০ কোটি । গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। প্রতিপক্ষ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ড। আর শেষ ম্যাচটি ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে। ইডেনে ৬৩ হাজার আর ওয়াংখেড়েতে ৩৩ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন। অর্থাৎ চারটি ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিটের একটা বিশাল বাজার আছে এখানে। টিকিট বিক্রির ওয়েসবাইটে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ–ইতালি ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ রুপি, বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট সর্বনিম্ন দাম ৩০০ রুপি এবং বাংলাদেশ–নেপাল টিকিট সর্বনিম্ন ২৫০ রুপি। এই ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরে গেলে আয় কমবে বিসিসিআইয়ের।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সব টেলিভিশন চ্যানেলকে নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সমস্ত ম্যাচ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বা প্রচার বন্ধ রাখার। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর। মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফিরোজ খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক কারণ জানা যায়নি এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও মর্মাহতির সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর এবং সকল সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের শীর্ষ নির্বাহীদের অবগত করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঘোষিত এই স্কোয়াডে অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন কুমার দাসকে, সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান। তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতানো অধিনায়ক জাকের আলী অনিককে দলে রাখা হয়নি, যা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘোষিত দলে আরও আছেন তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে টাইগাররা এরপর খেলবে ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ ঘিরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দল ও ভেন্যু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এ যেন এক রোমাঞ্চকর দিন! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আবারও প্রমাণ করল — টাইগাররা কোনো অংশে কম নয়। পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা আর নিখুঁত বাস্তবায়ন। ভারতের দেওয়া 265 রানের টার্গেট সহজেই টপকে যায় বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন অধিনায়ক শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বিশেষ করে শান্তর ব্যাট থেকে আসে এক চমৎকার সেঞ্চুরি, যেটি ছিল পুরো ইনিংসের মূল চালিকা শক্তি। এর আগে বল হাতে দারুণ শুরু করেন মোস্তাফিজ ও তাসকিন। পাওয়ার প্লে'তে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় টাইগাররা। মিডল অর্ডারে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ভারত থামে 264 রানে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শান্ত বলেন, "এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পুরো দল একসঙ্গে ভালো খেলেছে। বিশেষ কৃতিত্ব দিতে হবে আমাদের বোলারদের।" বাংলাদেশের এই জয়ে স্টেডিয়াম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে উচ্ছ্বাসের জোয়ার। সমর্থকরা বলছেন, "এটাই আসল টাইগাররা!" 🇧🇩🕊️ এই জয় শুধু একটি ম্যাচ নয় — এটি এক আত্মবিশ্বাসের গল্প, এক লড়াইয়ের নাম। টাইগাররা আবারও দেখিয়ে দিল, তারা হার মানতে জানে না। 👏🔥
ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৫ – দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এ এবারও উত্তেজনার পারদ চড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা ডায়নামাইটস ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মধ্যকার ম্যাচটি দর্শকদের জন্য ছিল এক অনবদ্য ক্রিকেট মহোৎসব। উভয় দলই মাঠে লড়াই করেছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে, যা খেলা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অবিরাম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ঢাকার বিপক্ষে চট্টগ্রামের বোলাররা শক্তিশালী বোলিং প্রর্দশন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। তবে ঢাকা ডায়নামাইটসের ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে রানের গতিকে ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচ শেষে ঢাকা ডায়নামাইটস ১৫০ রান করে, যা প্রতিহত করতে চট্টগ্রাম ব্যাটসম্যানরা নেমেছে। এই ম্যাচে ঢাকার তরুণ ব্যাটসম্যান সোহেল রহমান তার অর্ধশতক দিয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। চট্টগ্রামের পেসার আবু বক্কর ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছেন, যা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও দলের কৌশল নিয়েও বিশেষ আলোচনা হয়েছে। ঘরোয়া ফুটবলেও চলেছে তীব্র লড়াই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় লীগে ঢাকার কয়েকটি দল নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ইউনাইটেড ও রাজশাহী রেঞ্জার্সের ম্যাচে লক্ষ্যণীয় ছিল দলের স্ট্র্যাটেজি ও খেলোয়াড়দের দক্ষতা। দুই দলই সমানভাবে সুযোগ তৈরি করেছে, যার ফলে ম্যাচটি সমবয়স্ক ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবগুলো নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করছে, যা দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের ঘরোয়া ক্রীড়া আরও বেশি মনোযোগ ও বিনিয়োগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। তারা বলেন, “ঘরোয়া পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও দক্ষ প্রশিক্ষণ দেশের খেলোয়াড়দের সক্ষমতা বাড়ায় এবং জাতীয় দলের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।” পরবর্তী মাসগুলোতে ঘরোয়া ক্রিকেট ও ফুটবলের নানা ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় খেলাধুলাপ্রেমীরা নতুন রোমাঞ্চের প্রত্যাশায় রয়েছেন।