রাজধানী ঢাকায় দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে, যা নগরবাসীর জন্য নতুন এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আগের তুলনায় এখন আর ছিনতাই কেবল রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই—শরৎ দুপুর বা কর্মঘণ্টার ব্যস্ত সময়ে রাস্তাঘাটেও ছিনতাইকারীদের দাপট দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ব্যস্ত মার্কেট এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ওভারব্রিজ ও যানজটপূর্ণ মোড়গুলোতে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ হেঁটে চলার সময়, মোবাইলে কথা বলার সময় কিংবা বাসে ওঠা-নামার মুহূর্তে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। টার্গেট সাধারণত মহিলাদের ব্যাগ, ফোন, গলায় থাকা চেইন বা ছেলেদের মোবাইল ও মানিব্যাগ।
নিউমার্কেট, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বনানী, এবং মিরপুর—এইসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন অনেক পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা। অনেক সময় ছিনতাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালিত অপরাধীরাও জড়িত থাকে, যারা পেছন থেকে হঠাৎ করে টান মেরে পালিয়ে যায়। এমনকি ছিনতাইয়ের সময় আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পথচারীরা বলছেন, পুলিশের টহল থাকলেও অনেক জায়গায় কার্যকর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার না হওয়াও এই অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম, আর যদি ধরাও পড়ে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জনসাধারণের মধ্যে এখন এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করছেন না, ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখছেন, এমনকি সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরার চেষ্টা করছেন। নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আতঙ্কিত, কারণ তারা আত্মরক্ষায় খুব একটা সক্ষম নন।
নগরবাসী চাইছে—পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন আরও সক্রিয় হোক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি বাড়ানো হোক, এবং দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক টহল দল গঠন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (র্যাপিড রেসপন্স) চালু করাও এই সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
শহরজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, রাজধানীর নাগরিক জীবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই হবে না—জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর থেকেও। এখনই সময়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করে পথে মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পৃথক হামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ও সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কাসেমাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—নলচিড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া মুকুল এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কাওসার হোসেন। আহত ফিরোজ মিয়া মুকুল অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে পিঙ্গলাকাঠী বাজারে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন যুবদল কর্মী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে সরে যান এবং বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে কাওসার হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির কান, মুখ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবার অভিযোগ না করার কারণে ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়নি, শুধুমাত্র ক্ষতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটি তখন একা খেলছিল এবং দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে ভুট্টাখেতে নিয়ে হামলা চালায়। শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কায় তৎপর হন। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম. আবদুল হালিম জানিয়েছেন, “পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত পেট্রোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত পেট্রোলের একটি অংশ খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করা হলেও অবশিষ্ট অংশ অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, যার স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম সেখানেই খুচরা বিক্রি করা হয় এবং অপর ড্রাম অন্য স্টেশনে নেওয়ার কথা বলা হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক অভিযোগ করেন, জরিমানার রসিদ দেওয়া হলেও জব্দকৃত পেট্রোলের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রদান করা হয়নি এবং পরবর্তীতে খালি ড্রাম ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি অনুযায়ী জব্দকৃত পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।