আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী–তানোর) ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির শরিফ উদ্দীন, এবি পার্টির আবদুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল সায়াদ, বিএনপির বিদ্রোহী সুলতানুল তারেক এবং গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের কারণ হিসেবে মৃত ভোটারের স্বাক্ষর, প্রস্তাবকদের অনুপস্থিতি, আয়কর রিটার্নে স্বাক্ষরের ঘাটতি ও দলীয় সমর্থনের ফরমে স্বাক্ষরের অসঙ্গতি উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির মো. মিজানুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ ফজলুল করিম, লেবার পার্টির মো. মেজবাউল ইসলাম ও নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে ঋণ খেলাপির দায়, মৃত ভোটারের স্বাক্ষর ও তথ্য মিল না থাকার কারণে এলডিপির মো. ওয়াহেদুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন ও সালেহ আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা পর্যন্ত যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও হলফনামা যাচাই করা হয়। রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ৩৮টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন প্রার্থী দুটি আসনে মনোনয়ন দেয়ায় ভোটের মাঠে রয়েছেন ৩৭ জন প্রার্থী।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক (২০২৬–২০২৭) কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কালীগঞ্জের মহিউদ্দিন ম্যানশন-২–এ সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ১১ সদস্যের কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনের নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মূ. নাজমুল ইসলাম। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে আবু নাঈম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসুল, প্রচার সম্পাদক তাইজুল ইসলাম এবং অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবুল হাসনাত দায়িত্ব পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা যুব দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে।
উত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুর-এ অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ৬ যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কাঁঠালডাঙ্গী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৩৭০/১-এস থেকে প্রায় ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পিপলডাঙ্গী এলাকায় অবস্থান নেয় সদস্যরা। সকাল ৬টার দিকে ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন—রাণীশংকৈল উপজেলার ভরণীয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমান (২১) ও মনসুর রহমান (১৮), ভাণ্ডারিয়া গ্রামের রুবেল (২৮), রাঘোপুর গ্রামের আমিনুর রহমান (১৮), এবং হরিপুর উপজেলার মারাধর ও পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের ইমরান (২৩) ও সুবেল (২৬)। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, সীমান্ত অপরাধ দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা জানান, কাজের সন্ধানে অনেকেই দালালের প্রলোভনে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হন। সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা কঠিন হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার পেছনে ক্ষমতাসীন বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ কাজ করেছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের রাজনৈতিক যোগসাজশ হিসেবে অভিহিত করেন। নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করে বলেন, কার্যালয়গুলো অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেবে। তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রমাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া নাহিদ ইসলাম সংবিধান সংস্কার, আইনের শাসন, পুলিশে দলীয়করণ বন্ধ, নারী নিরাপত্তা, মব সংস্কৃতি দমন ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি নতুন মন্ত্রিসভাকে ‘পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে সমালোচনা করেন, যে মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য, নারী ও সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ যথেষ্ট হয়নি এবং ৬২% মন্ত্রী ব্যবসায়ী। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, গণভোট বাতিল হলে সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।