টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারদের টাকা দেন। এ সময় কয়েকজন ভোটারকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট দেখাতে দেখা যায়। তারা দাবি করেন, ভোটের জন্য ওই টাকা জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় জামায়াত নেতা রবিউল আলম তালুকদার বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, বিকেলে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে প্রতিপক্ষ দলের লোকজন নিজেরাই টাকা দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, গলায় থাকা মাফলার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া বলেছেন, জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের একটি বৈঠকস্থলে সহস্রাধিক বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খাগড়াছড়ির উন্নয়ন, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শানে আলম, ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা, উল্লাস ত্রিপুরাসহ সহস্রাধিক সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ বিএনপিতে যোগ দেন। নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি পাহাড় ও সমতল—উভয় অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়েই পরিচালিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, “ইসলাম কখনো অভাবী চোরের হাত কাটার কথা বলেনি, বরং স্বভাবী চোরের শাস্তির কথা বলেছে। বিগত দিনে বহু এমপি-মন্ত্রী স্বভাবী চোরে পরিণত হয়ে দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। এর ফলেই আজ সাধারণ মানুষ অভাবে দিন কাটাচ্ছে।” বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় স্টেডিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত হাতপাখা প্রতীকের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার। স্বভাবী চোরদের দুঃশাসনের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। একমাত্র ইসলামই দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামের শাসনে যেমন মুসলমানরা নিরাপদ থাকে, তেমনি অমুসলিমরাও নিরাপদ থাকবে—এটাই ইসলামের শিক্ষা। চরমোনাই পীর আরও বলেন, যারা শরিয়াহ মানে না, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামও মানে না। তাদের দ্বারা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানুষের কল্যাণ ও দেশের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করে। তিনি তরুণ ও নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের প্রথম ভোটটা হোক ইসলামের পক্ষে। ইসলামের পক্ষে একমাত্র প্রতীক হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কা।” এ সময় তিনি নীলফামারীর বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম হাছিবুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফকিরহাট উপজেলায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট থানা আমীর এবিএম তৈয়বুর রহমান, সেক্রেটারী আবুল আলা মাসুম, নির্বাচন পরিচালক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, যুব জামায়াতের সভাপতি মো: সুমন হোসেনসহ অন্যান্য নেতা ও সাংবাদিক। মাওলানা মশিউর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা, যুবকদের বেকার সমস্যা সমাধান এবং এলাকার সব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, চাকুরীর আশা না রেখে যুবকদের উদ্যোক্তা হতে হবে। নির্বাচিত না হলেও সমাজকল্যাণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।