সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিসিজিএস তৌফিক এর নির্বাহী কর্মকর্তা, লেঃ আশিকুল ইসলাম ইমন প্রেস ব্রিফিং এ জানান, গত ৭ মার্চ সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে ‘নানা ভাই বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু দলের সদস্যরা ৬ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের একজনের স্বজন কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-তে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের শিবসা নদী সংলগ্ন কালির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে দস্যুদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— রফিকুল, আলামিন ও ইসমাইল শানা (খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা) এবং রমজান আলী, রেজওয়ান ও মিয়া রাজ (সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা)।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বাগেরহাটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে মোট ৬ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে বাগেরহাট সদর থানার খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকায় বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্বতী ট্রাভেলস লিমিটেডের একটি যাত্রীবাহী কোচে তল্লাশি চালিয়ে তেলের ট্যাংকের পেছন থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোচের হেলপারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিউল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শরণখোলা উপজেলার গোলবুনিয়া আমড়াগাছি এলাকার বাসিন্দা। এর আগে, শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে একই থানার বিআরটিএ অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাহাদুর হাওলাদার (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ডিএনসির উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার মজুমদার ও পরিদর্শক এস এম জাফরুল আলম বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মামুন (যুবক) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ফকিরহাট মডেল থানার একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটক মামুন উপজেলার নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের শেখ বাবলুর ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শিবলী নোমানের নেতৃত্বে মোগনিসতলা–সাতশৈয়া সড়ক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি করে মামুনের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
শেরপুরে সদর থানার এক কিশোরী অপহরণ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই অভিযানে ঢাকার ধামরাই এলাকা থেকে অপহৃত কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-১৪-এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। র্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রথমবার অপহরণ ও ধর্ষণ করে আসামিরা। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩ অক্টোবর শেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-০৬) দায়ের করা হয়। এবং আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমকে পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ জুন কিশোরীকে পুনরায় বাড়ির কাছ থেকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নতুন করে মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪ ও র্যাব-৪ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং মূল আসামি মো. হযরত আলী বাবু (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত কিশোরীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।