বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মামুন (যুবক) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ফকিরহাট মডেল থানার একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
আটক মামুন উপজেলার নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের শেখ বাবলুর ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শিবলী নোমানের নেতৃত্বে মোগনিসতলা–সাতশৈয়া সড়ক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি করে মামুনের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ফকিরহাট মডেল থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল করিম গাইন নামের এক আদম ব্যবসায়ীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে ভুক্তভোগীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। অভিযোগে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামের আব্দুল করিম গাইন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের হুমকি-ধমকি দিতেন এবং বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখাতেন। এর আগে ২৮ এপ্রিল একটি প্রতারণা মামলায় নড়াইল সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
ফরিদপুরে আলোচিত ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আকাশকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধর ডাঙ্গী গ্রামের একটি কলা বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার রাতেই আকাশ পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধজনিত হতাশা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও গ্রেপ্তারের পর তার আচরণে তেমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে আকাশ তার দাদি আমেনা বেগম, ফুফু রাহেলা বেগম এবং প্রতিবেশী কাবুল আহমেদকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত কাবুল আহমেদের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা-এ ১০ বছরের এক কিশোরীকে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ভেতরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল রায়পুরা থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যেখানে ‘ধর্ষণের চেষ্ট‘ মামলা নেয়া হয়। তবে মামলার ধরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে দাবি করেন, ঘটনাটি ধর্ষণ হওয়া সত্ত্বেও “ধর্ষণের চেষ্টা” হিসেবে মামলা নেওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলাম নামে একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, "মেডিকেল রিপোর্ট বলছে ধর্ষণ, পুলিশ মামলা নিলো ধর্ষণের চেষ্টা", আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষণের মামলা নিবেন এবং আসামি গ্রেপ্তার করবেন। তা না হলে আগামীকাল দুপুর ১২ টায় থানা ঘেরাও দিবে রায়পুরাবাসী। কথা ক্লিয়ার... ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ৫০ ঘন্টা এবং মামলা দায়েরের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জবানবন্দি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রায়পুরা থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এলে মেডিকেল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।