সাতক্ষীরার বিচার বিভাগে মামলার জট উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি বাড়ছে। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৪৬টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মামলা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০টি মামলা।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫২২টি নারী ও শিশু মামলা, ৬২৬টি শিশু মামলা, ১৫১টি মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা এবং ১ হাজার ৪৩টি পিটিশন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পৃথক শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালেও রয়েছে ১৫০টি মামলা।
এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের ও ১৩৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর আবেদন গৃহীত হয়ে ১ হাজার ৪৬১টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।
এছাড়া এ সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ১ হাজার ১০৬ জন এবং পুরুষ ৩৭৬ জন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে এডিআর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি ও আদালত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি ফিরতে পারে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নার্সের অবহেলায় ১৪ বছরের এক শিক্ষার্থীকে ভুল রক্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। সে নারায়ণগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে পেটে ব্যথার কারণে তাকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসক দেখানো হয়। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেন। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর কোনো পূর্বঘোষণা বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ছাড়াই নার্স তার শরীরে রক্ত পুশ করতে শুরু করেন। এ সময় রোগীর মা আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়। প্রায় ২০ মিলিলিটার রক্ত দেওয়ার পর দেখা যায়, সেটি ভুল রক্ত গ্রুপের। পরবর্তীতে জানা যায়, রোগীকে দেওয়া রক্ত ছিল ‘ও পজেটিভ’, অথচ তার রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ’। এ রক্ত পাশের শয্যার এক রোগীর জন্য সংরক্ষিত ছিল বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। ভুল রক্ত দেওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত প্রদান বন্ধ করা হয়। তবে ততক্ষণে রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে তার জ্বর, বমিভাবসহ শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, রক্ত দেওয়ার আগে চিকিৎসক কোনো নির্দেশনা দেননি এবং রোগীর রক্তের প্রয়োজনীয়তাও জানানো হয়নি। এ সময় দায়িত্বরত নার্সের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিবেচনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তারা। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান জানান, বিষয়টি জানার পরই রক্ত প্রদান বন্ধ করা হয় এবং রোগীকে পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ভুলবশত নার্সের গাফিলতিতে রক্ত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।” তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা রোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগে মামলার জট উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি বাড়ছে। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৪৬টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মামলা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০টি মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫২২টি নারী ও শিশু মামলা, ৬২৬টি শিশু মামলা, ১৫১টি মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা এবং ১ হাজার ৪৩টি পিটিশন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পৃথক শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালেও রয়েছে ১৫০টি মামলা। এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের ও ১৩৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর আবেদন গৃহীত হয়ে ১ হাজার ৪৬১টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ১ হাজার ১০৬ জন এবং পুরুষ ৩৭৬ জন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে এডিআর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি ও আদালত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি ফিরতে পারে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না। চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।