আন্তর্জাতিক লিডারশিপ প্রোগ্রাম অন অ্যাডুকেশন (আইএলপিই-৬.০) প্রতিযোগিতার রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক রাউন্ড আগামী ২ মে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা গ্লোবাল ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ সেন্টার (জিআইএলসি) এবং জিআইএসটি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রোগ্রামের আঞ্চলিক রাউন্ডের জন্য ভেন্যু নির্ধারিত হয়েছে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিয়ে রংপুর বিভাগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করতে পারবে। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাইমারি, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়র, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি সেকেন্ডারি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি হায়ার সেকেন্ডারি এই চারটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক রাউন্ডের সফল প্রতিযোগীরা জাতীয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
যদিও অলনাইন নিবন্ধনের সময়সীমা ছিল গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আগ্রহী শিক্ষার্থী অনলাইন নিবন্ধন না করতে পারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ম্যানুয়াল নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৩৬০ টাকা নিবন্ধন ফি জমা দিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল বেলা তিনটা পর্যন্ত ম্যানুয়াল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
আঞ্চলিক রাউন্ডের সমন্বয়কারী সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক সোহেল রানা জানান, আমাদের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে এই আঞ্চলিক রাউন্ডের আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দক্ষ করে গড়ে তোলার একটি অনন্য প্লাটফর্ম।
রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ -উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন নেতৃত্বের পাঠ নেবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য,এই ইভেন্টের চূড়ান্ত বা আন্তর্জাতিক রাউন্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন নগরী বালিতে।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগে মামলার জট উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি বাড়ছে। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৪৬টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মামলা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০টি মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫২২টি নারী ও শিশু মামলা, ৬২৬টি শিশু মামলা, ১৫১টি মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা এবং ১ হাজার ৪৩টি পিটিশন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পৃথক শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালেও রয়েছে ১৫০টি মামলা। এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের ও ১৩৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর আবেদন গৃহীত হয়ে ১ হাজার ৪৬১টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ১ হাজার ১০৬ জন এবং পুরুষ ৩৭৬ জন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে এডিআর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি ও আদালত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি ফিরতে পারে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না। চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর-কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সতর্কতা জারি থাকলেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেটি এলাকায় ৮টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও এখনো বড় ধরনের আবহাওয়াগত প্রভাব পড়েনি। কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।