ফরিদপুরের উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মরিয়ম (১২) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে নগরকান্দা বাজারে শাখার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মরিয়ম উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের আসাদুজ্জামানের মেয়ে। সে -এর ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ইটবোঝাই একটি চার চাকার ট্রলির ধাক্কায় মরিয়ম সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে তার মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে -এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলি গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। তবে ট্রলির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়নি।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “এ ঘটনায় এখনো মামলা বা জিডি দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগে মামলার জট উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি বাড়ছে। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৪৬টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মামলা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০টি মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫২২টি নারী ও শিশু মামলা, ৬২৬টি শিশু মামলা, ১৫১টি মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা এবং ১ হাজার ৪৩টি পিটিশন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পৃথক শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালেও রয়েছে ১৫০টি মামলা। এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের ও ১৩৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর আবেদন গৃহীত হয়ে ১ হাজার ৪৬১টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ১ হাজার ১০৬ জন এবং পুরুষ ৩৭৬ জন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে এডিআর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি ও আদালত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি ফিরতে পারে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না। চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর-কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সতর্কতা জারি থাকলেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেটি এলাকায় ৮টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও এখনো বড় ধরনের আবহাওয়াগত প্রভাব পড়েনি। কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।