ইরানের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঘাটতি ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের অসমতা তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় তারা বলেন, নিম্ন আকাশসীমায় (লো অল্টিটিউড) হুমকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় ওয়াশিংটন কার্যকর আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, উচ্চ আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তুলনামূলক সফল হলেও নিম্ন আকাশপথে ইরানের মোবাইল ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কৌশল কার্যকর বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে ব্যয়বহুল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি আকাশ আধিপত্য অর্জনের চেষ্টা না করে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধনীতি’ (war of disruption) গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি ও প্রতিপক্ষের ব্যয় বাড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত ধ্বংসাত্মক অভিযান (destructive operations) পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংসে মনোযোগ দিচ্ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মাইকেল ও’হ্যানলন সতর্ক করে বলেন, উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রতিহত করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তিনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি এবং বিকল্প প্রযুক্তি—বিশেষ করে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসন তাদের সামরিক সাফল্যের দাবি অব্যাহত রাখলেও বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী বর্তমান সংঘাতে পূর্ণ আকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতাই প্রধান বাস্তবতা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
মস্কো থেকে আসা এক নতুন কূটনৈতিক বার্তায় ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে শর্তসাপেক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, চলমান সংঘাত হয়তো শেষ পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি–এর সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকতে পারে। শনিবার (০৯ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন দাবি করেন, যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিতভাবে শক্তিশালী এবং তারা বিজয়ের পথেই রয়েছে। একই দিনে মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধরত রুশ সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পুতিন এ সংঘাতকে “ন্যায্য প্রতিরক্ষা যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশ ও ন্যাটোর সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে একটি প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত করেছে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি এখন সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এদিকে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে, যা নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্যে পুতিন পশ্চিমা বিশ্বায়নবাদী নীতিকে দায়ী করেন এবং ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণকে বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সম্ভাব্য কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সেটি হতে পারে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ দেশে।
মালির মধ্যাঞ্চলে জিহাদি সহিংসতার নতুন ঢেউয়ে অন্তত ৭০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত শুক্রবার একাধিক স্থানে সমন্বিত হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সংগঠন JNIM। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিল বলে জানা গেছে, ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি বলে নিশ্চিত করলেও আরেকটি সূত্রে তা ৮০-এর কাছাকাছি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক যুবনেতা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হতাশা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যেসব গ্রাম সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় সমঝোতা চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, সেগুলোই মূলত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়াম–এ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কয়েকদিন ধরে জোট গঠনের আলোচনা চালাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিআই (এম) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন তিনি। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। তারপরও তার জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–এর বাইরে অন্য কোনো দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।