ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং দলটির নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে নৈতিকতা ও সুশাসনের গভীর সংকটে রয়েছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যের রাজনীতি থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী আদর্শভিত্তিক সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বন্দোবস্তের নির্বাচন। জনগণের সমর্থন পেলে সংসদে গিয়ে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। এ সময় তিনি বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শায়খে চরমোনাই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইসলামী রাজনীতির লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন।
মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ মহানগর ও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়র মোড়কে ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সবুজবাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল অলীম বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। খাদ্যের মোড়কে সতর্কবার্তা সংযোজন করলে ভোক্তারা সচেতন হবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং লেবেলিংয়ের নকশার খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তাই জনস্বার্থে ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এ দাবির পক্ষে বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সমমনা সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের একটি প্রতিনিধি দল শেরপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করে এবং খসড়া প্রবিধান চূড়ান্তের অনুরোধ জানিয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটার সরাসরি কেন্দ্রে না গিয়ে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। সাধারণত প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন। গাজীপুর-৫ আসনে প্রবাসী ও দেশের ভোটারের মধ্যে মোট ৩,৬৭৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে পুরুষ ৩,০৩২ জন এবং মহিলা ৬৪৫ জন। এ আসনে ১ পৌরসভা, ৮ ইউনিয়ন ও ৪টি সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ এবং ভোট কেন্দ্র ১২৪টি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হোসেন জানান, ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণ সম্পন্ন। জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত প্রিজাইডিং অফিসার পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইটি সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে। ভোটের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম তদারকি করবে। তিনি সকল প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। স্থানীয় ভোটাররা নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহ প্রকাশ করছেন। তবে তারা পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের নজরদারিতে উদ্বিগ্ন, তাই নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের দুইটি সংসদীয় আসনে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক বরাদ্দের পত্র তুলে দেন পঞ্চগড়ের দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। এ সময় বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় পঞ্চগড়-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এনসিপি, জামায়াতের নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।