নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের হুমকিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকা না ছাড়লে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
ভুক্তভোগী আবু হানিফ রাসেল ভূঁইয়া আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকার বাসিন্দা ও নজরুল ইসলাম আজাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তিনি জানান, মোবাইল ফোনে হুমকি পাওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ভূঁইয়া বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলটির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমনের অনুসারী হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এ কারণেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে, নজরুল ইসলাম আজাদের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে ভুক্তভোগীকে এলাকায় ফিরতে না দেওয়ার এবং শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে রাজধানীর গুলশানে একটি গোপন স্থানে আওয়ামী লীগের ৪৮ জন পলাতক নেতার সঙ্গে নজরুল ইসলাম আজাদের বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। ওই বৈঠকে সাবেক পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং রাজধানীর গুলশানে নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি শাখা রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে দুইটার দিকে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং তেলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় সাবেক সদস্য নয়নের মৃত্যু ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা অভিযোগ করেছেন, ডিবি কার্যালয়ে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ রয়েছে।
নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় ফোনের পরিচয় সূত্রে দেখা করতে গিয়ে এক চার সন্তানের মা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রিদয় মিয়া (৩২) নামের একজনকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগীর মোবাইলে রিদয় মিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে বাজার থেকে ঘরে ফেরার পর তিনি একা রিদয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। রাস্তায় সংলাপের একপর্যায়ে রিদয় তাকে পুকুরপাড়ের দিকে টেনে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণকারী রিদয় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় কারখানায় আশ্রয় নেন এবং তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ রোববার (৮মার্চ) গ্রেফতার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করবে। এই ঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পরিধি বাড়ানো হয়েছে, এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় এক ছিনতাইকারীকে জনতা ধরে গণধোলাই দিয়েছে এবং পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মাইন উদ্দিন (৩২)। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিনি এরশাদনগরের ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার (০৪ মার্চ) রাতের ঘটনায় মাইন উদ্দিন ও তার দুই সহযোগী পথচারীকে লক্ষ্য করে ছিনতাই শুরু করলে একজন ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত করা হয়। জনতার তৎপরতায় একজন ছিনতাইকারী আটক হয়, বাকি দুইজন পালিয়ে যায়। গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে আটককের হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়। ভুক্তভোগীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, জনতার হাতে আটক মাইন উদ্দিন এখন পুলিশ হেফাজতে আছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।