রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুইজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মেহেদী হাসান (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঢাকার শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদী চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী। গ্রেফতার মেহেদী হাসান তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ এলাকার ইছাহাক আলীর ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে সয়ার বুড়িরহাট এলাকায় রুপলাল রবিদাস ও তার জামাই প্রদীপ লালকে চোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। পরে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুপলাল মারা যান এবং প্রদীপ লাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় ১০ আগস্ট রুপলালের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযানে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার শাহবাগ থেকে প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা রাকিবুল আলম রাশু–কে। ঘটনাটি দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেট এলাকায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হয়। নিহত রাশু ৩৫ বছর বয়সী এবং দৌলতপুর থানা যুবদলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি আগে দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কল্পতরু মার্কেটে ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। তাঁর পিতার নাম মো. শরীফ আনাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রাশু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলির একটি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ঘটনাস্থলে তিনটি গুলির খোসা পাওয়া যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দৌলতপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় নিহতের স্বজন, বন্ধু ও দলীয় নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন, ফলে এলাকায় শোকাবহ ও আতঙ্কপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অফিসে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে আব্দুল রাজ্জাক (৩০) নামে এক ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সৈয়দপুর শহরের রাবেয়া বাজার মন্দির সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল রাজ্জাক সোনাপুকুর চাকলা এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঔষধ সরবরাহ ও বিক্রি শেষে সংগ্রহ করা টাকা নিয়ে অফিসে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় ব্রিজের ওপর আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাবাব আসফাক জানান, আহতের হাতের গভীর ক্ষতস্থানে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত অবস্থায় তিনি অচেতন থাকায় ছিনতাই হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি শাখা রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে দুইটার দিকে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং তেলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় সাবেক সদস্য নয়নের মৃত্যু ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা অভিযোগ করেছেন, ডিবি কার্যালয়ে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ রয়েছে।