পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত বিঘা চা বাগান ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ২৫ বছরের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে তোলা চা বাগান জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০১৬ সালে সাব-রেজিস্ট্রি চুক্তির মাধ্যমে তারা দুই একর ৪০ শতক জমি ২৫ বছরের জন্য লিজ নেন এবং সেখানে চা বাগান গড়ে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ ও পরিচর্যা চালিয়ে আসলেও সম্প্রতি লোভের বশে চুক্তি ভঙ্গ করে সাবেক চেয়ারম্যান জমিটি দখল করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে তিনি ও তার লোকজন বাগানে অবস্থান করে পরিচর্যা করছেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। এতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী তাসরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কষ্ট করে চা বাগান গড়ে তুলেছি। এখন আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তবে অভিযুক্ত রুহুল আমিন প্রধান দাবি করেন, লিজগ্রহীতারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং জমির মালিক হিসেবে তিনি বাগান দখলে নিয়েছেন।

স্থানীয়দের একাংশ জানান, পূর্বে জমিটি পতিত ও জঙ্গল ছিল। লিজগ্রহীতারা তা চাষযোগ্য করে চা বাগান তৈরি করেন। পরে হঠাৎ করে দখল নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং চা বিক্রির টাকা থানায় জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে থানায় মামলা গ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকায় বিষয়টি আদালতে নিতে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, “উভয় পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ১৮ তারিখ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।”
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা বাজারের কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের বারান্দা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী গত ৩-৪ দিন ধরে বেতাগা বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এর আগে তাকে কাটাখালী মোড় এলাকাতেও দেখা গেছে। খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ধারণা, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মানবিক কারণে তাকে মন্দিরের বারান্দায় শুইয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে তিনি মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে ধানক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষতি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতে একাধিক হাওরে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২ মে) ভোর থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদী-এর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের মতে, জামে মসজিদ সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ প্রথমে উপচে পড়ে, পরে দ্রুত ভেঙে গিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত প্লাবিত হয় এবং মাঠে থাকা কৃষকরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, বোয়ালা হাওরে মোট ৫৭৪ হেক্টর বোরো ধানের মধ্যে অধিকাংশ ইতোমধ্যে কাটা শেষ হলেও অন্তত ৮৪ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আকস্মিক পানির চাপ ও বাঁধের দুর্বল অংশে ভাঙনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও স্থানীয়রা উপস্থিত থাকলেও পানির প্রবল স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, কৃষকদের অভিযোগ—নির্মাণ ত্রুটি ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বারবার হাওর রক্ষা বাঁধ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, যা ফসল নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চরকালী এলাকায় এক অসহায় বিধবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা ও দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মনিরুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা বেগম পৈত্রিক ও দলিলসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে তা দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। সমাধানের আশায় আয়েশা বেগম একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে জানান। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল তিনি পরিবারসহ বসবাসের জন্য জমির ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক দফা ওই ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আয়েশা বেগম ও তার ছেলে সোহাগ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা আয়েশা বেগমের পুরোনো বাড়ির একটি কক্ষ তালা, টিন ও কাঠ দিয়ে আটকে দিয়ে তাদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী আয়েশা বেগম ও এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।